তিমিরকান্তি পতি,বাঁকুড়া: নতুন জেলাশাসক হিসেবে বাঁকুড়ায় যোগ দিলেন মুক্তা আর্য। সোমবার সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন তিনি তাঁর দায়িত্বভার বুঝে নেন। রবিবার ষষ্ঠ দফার ভোটগ্রহণ শেষে ওই দিন সন্ধ্যায় বাঁকুড়া জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এসকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন খাদ্য দপ্তরের যুগ্ম সচিবের দায়িত্বে থাকা মুক্তা আর্য।

এদিন বাঁকুড়া জেলাশাসক হিসেবে কাজে যোগ দেওয়ার পরই মুক্তা আর্য শহরের খ্রীশ্চান কলেজে স্ট্রং রুম পরিদর্শনে যান ও তাঁর উপস্থিতিতে স্ট্রং রুমের দরজা সিল করা হয়। একই সঙ্গে এদিন নতুন জেলাশাসক বাঁকুড়ার সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও রাজনৈতিক দল গুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এদিনের বৈঠকে তৃণমূলের তরফে উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা সভাপতি অরুপ খাঁ, বিধায়ক সমীর চক্রবর্ত্তী, সিপিএমের অমিয় পাত্র, বিজেপির ডাঃ সুভাষ সরকার প্রমুখ।

এদিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে মুক্তা আর্য সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি। অন্যদিকে তৃণমূল জেলা সভাপতি অরুপ খাঁ বেঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দু’আঙ্গুল তুলে ‘ভি’ দেখিয়ে বলেন, ‘‘আমরাই জিতছি।’’ বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ সুভাষ সরকার ‘জেলাশাসকের অপসারণ প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকাতেও একেবারে খুশি নন বলে স্পষ্টতই জানিয়ে দেন।

অন্যদিকে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী অমিয় পাত্র বলেন, ‘‘২৬ টি কেন্দ্রে আমরা পুর্ননির্বাচন চেয়েছিলাম। ওই বুথ গুলিতে ছাপ্পা ও রিগিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সেই দাবি মানা হয়নি। এবারে যথেষ্ট ভোট কাটাকুটি হয়েছে। সেই সংখ্যাটা কোন দলের পক্ষে গিয়েছে এখনই বলা অসম্ভব।’’ ভোটের দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল না দাবি তাঁর৷ জানান, ১০ তারিখ থেকেই বলেছিলাম, এতো দিন মাঠে, ময়দানে আমাদের লড়াই ছিল তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে। শেষের দু’দিন জেলার পুলাশ সুপার ও জেলাশাসকের বিরুদ্ধে। কারণ ওদের দিয়েই শাসক দল বুথ দখল, রিগিং ছাপ্পা করায়। জেলাশাসকের অপসারণের ঘটনায় সেটাই প্রমাণ করে দিল। একই সঙ্গে জেলাশাসকের আগে জেলা পুলিশ সুপারকে সরানো উচিত ছিল বলে অমিয় পাত্র জানান।