স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া শহরে বেশ কিছু রাস্তা সংস্কার ও নিকাশি নালা তৈরির উদ্যোগ নিল পৌরসভা৷ এই কাজ শেষ হলে শহরের দীর্ঘদিনের সমস্যা, নিকাশি ব্যবস্থার অনেকটাই যেমন উন্নতি হবে তেমনই রাস্তা সংস্কারের ফলে গতিময়তা বাড়বে বলেই অনেকে মনে করছেন৷

বাঁকুড়া পৌরসভা সূত্রে খবর, এই কাজে ইতিমধ্যে ১৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে৷ এই টাকায় ৩৪ টি নিকাশি নালা ও ৪১ টি রাস্তা সংস্কার করা হবে৷ সূত্রের খবর, এই কাজের টেণ্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে৷

সূত্রের খবর, লালবাজার ভাটি গোড়া থেকে রেলগেট, বড়কালীতলা-স্কুলডাঙ্গা ভায়া শিখরিয়া পাড়া, কলেজ মোড় থেকে ভৈরব স্থান, সার্কিট হাউস থেকে কাটজুড়িডাঙ্গা তারাগতি সামন্ত রোড রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ ফলে এলাকাবাসীর রাস্তা সংস্কারের দাবি অনেকটাই মিটছে বলে অনেকে মনে করছেন৷

পড়ুন: রাস্তা না হলে ভোট নয়- সাফকথা বাসিন্দাদের

একইসঙ্গে শহরের শাঁখারি পাড়া মোড়, শুভঙ্কর সরণী, পদ্মপুকুর পল্লী, সার্কাস ময়দান ও চাঁদমারিডাঙ্গা এলাকায় পৌরসভার তরফে পাকা নালা গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ ফলে বাঁকুড়া শহরের দীর্ঘদিনের সমস্যা অল্প বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হওয়ার ঘটনা অনেকটাই কমানো যাবে বলে পুরকর্তাদের ধারণা৷

অন্যদিকে পূর্ব ঘোষণা মতো ‘গ্রীণ বাঁকুড়া’ গড়ার লক্ষ্যে অনেকটাই এগিয়েছে বাঁকুড়া পৌরসভা৷ শহরের প্রাণকেন্দ্র মাচানতলা এলাকার রাস্তার দু’ধারে বসা হকারদের উঠে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ সব হকারদের রাস্তার দু’পাশ থেকে উঠে কিষাণ মাণ্ডিতে বসার কথা বলা হয়েছে৷

পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁকুড়া শহরকে গ্রীণ জোনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন৷ আমরা শহরের রাস্তার দু’পাশে বসা হকারদের উঠে যাওয়ার নির্দেশ যেমন দিয়েছি তেমন তাদের বিকল্প বসার ব্যবস্থাও করেছি৷ বাঁকুড়া শহরের কিষাণ মাণ্ডিতে অনেক ব্যবসায়ি উঠে গিয়েছেন৷ সেখানে শেড তৈরি করা হয়েছে৷ যাঁরা এখনও ওখানে যাননি তাঁদেরও উঠে যেতে বলা হয়েছে৷ কারণ এখানে যারা ব্যবসা করছেন সকলেই এই শহরের বা জেলার বাসিন্দা৷ তাই তাঁরা বিপদে পড়ুন আমরা কখনও চাইব না৷” সেকারণেই বিকল্প বসার ব্যবস্থা করেই রাস্তা দখলমুক্ত করার কথা ভাবা হয়েছে বলেও তিনি জানান৷

পৌরসভার এই উদ্যোগে খুশি শহরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি খুশি প্রতিদিন নানা কাজে এখানে আসা জেলার অন্যান্য অংশের অসংখ্য মানুষও৷ তাঁরা বলেন, “রাস্তার দু’পাশ দখল করে হকার বসে পড়ার কারণে দিন দিন রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ছিল৷ চরম সমস্যায় পড়ছিলেন সাধারণ মানুষই৷” এই উদ্যোগ ফলপ্রসূ হলে বাঁকুড়া শহরের যানযটের সমস্যা অনেকটাই মিটবে বলে অনেকে মনে করছেন৷