তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: প্রিয়জনকে চিরতরে হারানোর দুঃসহ যন্ত্রণার মধ্যেও মুহূর্তের মধ্যে তার চক্ষুদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে এলাকায় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন বাঁকুড়ার তালডাংরার লায়েক পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার ভোরে তালডাংরায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় বছর পঁয়ষট্টির সুনীল লায়েকের।

এই অবস্থায় শোকাতুর পরিবেশের মধ্যে সুনীলবাবুর পরিবার সিদ্ধান্ত নেন তার কর্ণিয়া দানের। ভাবনা মতই তারা যোগাযোগ করেন, দুর্গাপুর ব্লাইণ্ড রিলিফ সোসাইটির সঙ্গে। সংস্থার কর্মীরা দ্রুততার সঙ্গে এদিন তালডাংরায় মৃতের বাড়িতে এসে কর্ণিয়া সংগ্রহ করেন।

বর্তমান সময়ে সারা রাজ্যেই মরণোত্তর দেহ ও চক্ষুদান বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। কিন্তু প্রচারের অভাবে প্রত্যন্ত এলাকায় এই ধরণের উদ্যোগ এখনো সেইভাবে দেখা যায়নি। সেই অবস্থায় আগাম মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকার না থাকা সত্ত্বেও লায়েক পরিবারের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার মানুষ।

দীর্ঘ দিন রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, তালডাংরার বাসিন্দা অভিরুদগত মাজি বলেন, সম্ভবত এই প্রথম তালডাংরা ব্লক এলাকার কোনও মৃত ব্যক্তির পরিবার কর্ণিয়া দান করলেন। অনেকের মরণোত্তর অঙ্গদানের ইচ্ছা থাকলেও বেশ কিছু সমস্যার কারণে তা হয়ে ওঠেনা। মৃতের শরীরের অঙ্গ গুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংগ্রহ করে তা প্রতিস্থাপন সম্ভব। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রাম বাংলা বা মফঃস্বল এলাকায় দূরত্বগত ও পরিকাঠামো কারণে চাইলেও অনেকে তা পারেননা। এই অবস্থার মধ্যেও তাদের গ্রামের সুনীল লায়েকের পরিবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে তিনি মনে করেন।

মৃতের বড় ছেলে সঞ্জয় লায়েক ও ভাইপো অমিত লায়েক বলেন, ওনাকে আমরা চাইলেও আর কোনও দিন ফিরে পাবোনা। কিন্তু ওনার চোখ দিয়ে অন্য কেউ পৃথিবীর আলো দেখবে এটা চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে। সেকারণেই শোকাতুর পরিবেশের মধ্যেও পরিবারের সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে তারা জানান।