তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: প্রাক্ বর্ষাকালীন মরশুমে পতঙ্গবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নিল বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। সামাজিক নিরীক্ষা বিভাগের তরফে গ্রামীণ সম্পদ কর্মীরা এই জেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন করছেন। কারও বাড়িতে গিয়ে জমে থাকা জল দেখলেই তৎক্ষনাৎ তা ফেলার উদ্যোগ নিচ্ছেন।

প্রাক্ বর্ষার এই মুহূর্তে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ মশাবাহিত ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া সহ অন্যান্য রোগের শিকার হন। সরকারি তরফে এবিষয়ে ধারাবাহিক প্রচার চালানো হলেও সেভাবে সব মানুষকে সচেতন করা সম্ভব হয়নি। তাই এই পরিস্থিতিতে জেলায় সম্পদ কর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সাধারণ মানুষকে সচেতনের এই উদ্যোগ যথেষ্ট ফলপ্রসু হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সোনামুখীর নিত্যানন্দপুর গ্রামে বাড়ি বাড়ি সামাজিক নিরিক্ষার কাজ করার ফাঁকে সম্পদ কর্মী সুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘এই কাজে আমরা খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। সাধারণ মানুষকে মশা ও অন্যান্য পতঙ্গ বাহিত রোগ বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি কোন পরিবারে চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়ার মতো রোগে কেউ আক্রান্ত থাকলে তৎক্ষনাৎ স্থানীয় আশা কর্মীকে বিষয়টি জানাচ্ছি। তার মাধ্যমেই দ্রুততার সঙ্গে অসুস্থ সেই ব্যক্তির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

গ্রামবাসী সন্ধ্যা মন্ডল ও কাজল মন্ডল বলেন, ‘গ্রামীণ সম্পদ কর্মীরা আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই এসেছিলেন। তাঁরা পরিবারে কেউ মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত কিনা তা যেমন খবর নিলেন তেমনি বাড়ির আশে পাশে পরিষ্কার বা নোংরা জল কোনভাবেই জমে না থাকে সে বিষয়ে সচেতন করেন। পাশাপাশি মশার কামড় থেকে বাঁচতে রাতে মশারি টাঙ্গিয়ে শোয়ার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।’

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের এই কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভালো রকমের সাড়া মিলছে। জনসচেতনতার ক্ষেত্রে সরাসরি যোগসূত্র তৈরির পাশাপাশি কোথাও আবর্জনা বা জমা জল থাকলে তা তৎক্ষনাৎ ফেলার উদ্যোগ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে কোথাও কোন মানুষ পতঙ্গ বাহিত রোগের শিকার হয়ে থাকলে এদের মাধ্যমে সেই খবর সরাসরি স্বাস্থ্য দফতরে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাও সম্ভব হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।