তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: অসখ্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গড়াগড়ি খাচ্ছে ‘রেকর্ড রুমে’র বাইরে। আর এই ঘটনায় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসনীতাকেই দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা।

রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। প্রতিদিন বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরের একাংশ, এমনকী ভিনরাজ্য থেকেও অসংখ্য রোগী আসেন এই হাসপাতালে। তাঁদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও জন্ম-মৃত্যুর নথি হাসপাতালে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষভাবে সংরক্ষণ করে রাখার কথা।

কিন্তু বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই ব্যবস্থা শিকেয় উঠেছে বলে অভিযো রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের। হাসপাতালের ‘রেকর্ড রুমে’র বাইরে প্রয়োজনীয় সব নথি গড়াগড়ি খাচ্ছে। এমনকী সেই নথিভর্তি বস্তার পাশেই ভিড় করে রয়েছেন রোগী ও তাঁদের আত্মীয়েরা।

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এই উদাসীনতায় ক্ষোভ রোগীর আত্মীয়দের একাংশের মধ্যে। ক্ষুব্ধ এাকার বাসিন্দারাও। তাঁরাই বছরভর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা এই হাসপাতালের উপরেই নির্ভর করে থাকেন।

এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা গণেশ মালাকার জানান, এই মুহূর্তে এনআরসি ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রসঙ্গে একাংশের মানুষএর মনে উদ্বেগ রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে যা কখনই কাম্য নয়। জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র নিতে গেলেও অনেক সময়ই তা মিলছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। দলের বাঁকুড়ার সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকারের অভিযোগ, ‘রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মতোই হাল হয়েছে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজের রেকর্ড রুমের।’

বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ, সুপারের পাশাপাশি রোগী কল্যাণ সমিতির দায়িত্বজ্ঞানহীন মানসিকতার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নথির সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ।

অন্যদিকে, বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতীম প্রধান এবিষয়ে জানিয়েছএন, ৫০ বছর আগে হাসপাতালের আউটডোরের একটি অংশ নিয়ে রেকর্ড রুম তৈরি হয়েছিল। তখন হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কম ছিল। এখন বছরে এক লক্ষেরও বেশী রোগী এখানে ভর্তি থাকেন। এই মুহূর্তে তাই বিএসসি নার্সিং কলেজে রেকর্ড রুম স্থানান্তরিত করার কথা ভাবা হয়েছে।

এরই পাশাপাশি রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য ও বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত জানান, গুরুত্বপূর্ণ নথি ছড়িয়ে থাকার বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। দ্রুত এবিষয়ে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।