তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: স্থাপত্য আর ভাস্কর্যের দেশ বাঁকুড়া। আর সেই বাঁকুড়ার তালডাংরা ব্লক এলাকার দেউলভিড়া গ্রামে আনুমানিক খ্রীষ্টিয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তৈরি মাকড়া পাথরে নির্মিত জৈন ধর্মের ২৩ তম তীর্থঙ্কর পার্শ্বনার্থের মন্দির আজও সগর্বে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। এই প্রাচীন মন্দিরকে কেন্দ্র করেই এই এলাকায় পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা দেখছেন এখানকার মানুষ। কিন্তু তার আগে চাই এই প্রাচীন মন্দিরটির সংস্কার, এমন দাবিই এখন জোরালো হচ্ছে ঐ এলাকায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই সম্পূর্ণ এলাকাটি জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। আর ঐ পরিত্যক্ত মন্দিরটিতে দু’টি ভালুক থাকতো। আর মন্দিরের বিভিন্ন অংশে ছিল বাদুড়ের বাস। পরবর্ত্তী সময়ে নগর সভ্যতার চাপে জঙ্গল কেটে সাফ করা হয়েছে। ভালুক দু’টির সঙ্গে সঙ্গে বাদুড়ও তার আস্তানা বদলেছে। এলাকার প্রবীণ মানুষদের দাবি, কোন এক সময় এই এলাকায় খনন কার্য্য চালিয়ে বেশ কয়েকটি প্রাচীন মূর্তি পাওয়া যায়। বর্তমানে সেগুলি ঠিক কোথায় রয়েছে সেবিষয়ে কোন তথ্য কারো কাছেই নেই বলে এলাকার মানুষ জানিয়েছেন।

বর্তমানে দেউলভিড়া গ্রামের প্রাচীন মন্দিরটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব ও সংগ্রহালয় দফতর ‘সংরক্ষিত সৌধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ঐ দফরের তরফে লাগানো সাইন বোর্ড থেকে জানা যায় ‘ ত্রিরথ রেখ দেউলটিতে জৈন তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের মূর্তি স্থাপিত ছিল।’ বর্তমানে যা ‘কলকাতার ভারতীয় যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় কুমার দানা বলেন, অনেক দিন আগে সরকারি উদ্যোগে এই মন্দিরটি সংস্কার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে কাঁটাতার যুক্ত পাঁচিলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মন্দির পর্যন্ত রাস্তা তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ব্যাস ঐ টুকুই। বর্তমানে ঐ রাস্তার একটা বড় অংশ কেটে চাষিরা জমি করে ফেলেছেন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রশাসনিক উদ্যোগ জরুরি। সামান্য পরিকাঠামো তৈরি করলেই প্রাচীন এই মন্দিরের টানে প্রত্যন্ত এই গ্রামেও পর্যটকরা আসবেন। যা থেকে আখেরে লাভ হবে গ্রামের মানুষেরই বলে তিনি মনে করেন।