তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: রাইট ব্যাংক ইরিগেশান ডিডিভশন (আরবিআই) অর্থাৎ দক্ষিণ তট সেচ খালের অফিস সরানোর প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনে সামিল হল বাঁকুড়ার সোনামুখী এলাকার চাষি, সাধারণ মানুষ ও ঠিকাদারদের একাংশ।

সোমবার সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন সেচ দফতরের অফিসের সামনে এই বিক্ষোভ আন্দোলনকে ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে প্রাচীন পুর শহর সোনামুখী। এলাকার অসংখ্য মানুষ এদিন আরবিআই-এর অফিস সরানোর প্রতিবাদ আন্দোলনে অংশ নেন।

সোনামুখী কৃষি বাঁচাও কমিটি ও আরবিআই বাঁচাও কমিটির ব্যানারে আন্দোলনরত কৃষক ও ঠিকাদারদের অভিযোগ, ডিভিসির জন্মলগ্ন থেকে রাইট ব্যাংক ইরিগেশান ডিডিভশনের অফিসটি সোনামুখীতে ছিল। যার কাজের পরিধি ছিল বাঁকুড়া, বর্ধমান হয়ে হুগলি পর্যন্ত সর্বমোট ১০৫ কিলোমিটার।

সম্প্রতি সেচ দফতর এই অফিসটি সোনামুখী থেকে সরিয়ে বর্ধমানে নিয়ে যায়। ফলে একদিকে যেমন এখানকার চাষিদের অভাব, অভিযোগ জানাতে বর্ধমান ছুটে যেতে হবে, তেমনি এলাকার ছোটো ঠিকাদাররাও কাজ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। এই অবস্থায় ফের সেচ দফতরের ওই অফিস সোনামুখীতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরাকেও জানানো হয়েছে। সোনামুখীতে এই অফিস ফিরে না এলে আন্দোলনকারীরা বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে জিয়াউদ্দিন তরফদার, আসরাফ মিদ্যারা বলেন, আরবিআই-এর এই অফিস বর্ধমানে স্থানান্তরকরণের ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন এলাকার কৃষক সমাজ। সেচ নালা সংস্কার থেকে সেচের জলের সমস্যা সংক্রান্ত প্রয়োজন সোনামুখীতেই মিটেছিল। এবার বর্ধমানে ছুটতে হবে। যা একদিকে সময়সাপেক্ষ, অন্যদিকে তেমনি ব্যয় সাপেক্ষও বটে। এই অবস্থায় সম্মিলিত কৃষক, খেতমজুর, এলাকার মানুষ ফের সোনামুখীতেই ওই অফিস ফেরতের দাবিতে আন্দোলনে সামিল বলে তারা জানান।

সোনামুখীর বাসিন্দা প্রবাল কুমার মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে এখানে এই অফিসটি ছিল বলে দাবি করেন৷ বলেন, হঠাৎ করেই তা বর্ধমানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আন্দোলনকারী কৃষক, সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে সোনামুখীবাসী সমর্থন জানিয়ে বলেন, অফিসটি যাতে ফের এখানে ফিরে আসে সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনের গতি তীব্র করার পাশাপাশি সোনামুখী শহরকে স্তব্ধ করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

এই বিষয়ে সেচ দফতরের স্থানীয় মহকুমা আধিকারিক এসকে মণ্ডল সোনামুখী থেকে আরবিআই-এর অফিস সরানোর বিষয়টি সরকারে আদেশানুসারে হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, সেচ সংক্রান্ত কোন সমস্যা হলে কৃষকরা তাকে জানালে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তবে তাঁর অফিসেও কর্মচারীর সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলেও তিনি স্বীকার করেন।