তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: একশো দিনের কাজের প্রকল্পে ন্যায্য মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার শ্রমিকরা। শুক্রবার বাঁকুড়ার ওন্দা-১ পঞ্চায়েতের ঘটনা। তৃণমূল পরিচালিত এই পঞ্চায়েত এলাকার একশো দিনের কাজ প্রকল্পে যুক্ত শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা মাটি কাটার কাজ করেও সঠিক মজুরি পাচ্ছেন না।

সরকারি নিয়মানুযায়ী, প্রাপ্য ১৯১ টাকা মজুরি না দিয়ে কোনও কোনও সময় গড়ে ৬০-৭০ টাকা দৈনিক মজুরি দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ। প্রকল্পের বরাদ্দ টাকার বাকি অংশ কোথায় যাচ্ছে, সে নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন তারা। এই ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার জবকার্ডের গ্রাহকরা ওন্দা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ওন্দা থানার পুলিশ।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষে জীবনকৃষ্ণ পাল, কালী মাল, শ্যামলী নন্দীরা জানান, সকাল ৮-২টো পর্যন্ত চলে কাজ৷ হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের পরেও সপ্তাহ শেষে নামমাত্র মজুরি মেলে। এই প্রকল্পে কাজ না করে অন্যের জমিতে চাষের কাজ করলে এর চেয়ে অনেক বেশী মজুরী ও একবেলা খাবার পাওয়া যায়। সেখানে সরকারি প্রকল্পে কাজ করে নির্ধারিত মজুরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলেও তাঁদের অভিযোগ। ন্যায্য মজুরি দেওয়ার অশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা বিক্ষোভ-আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

শ্রমিকদের বিক্ষোভ নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান মিঠু মাল জানান, একশো দিনের কাজ প্রকল্পে দৈনিক হিসেবে মজুরি দেওয়ার কোনও নিয়ম নেই। এক- একজন শ্রমিক যে পরিমাণ মাটি কাটবেন সরকারি হিসেব অনুযায়ী সেই মতো মজুরি দেওয়া হয়। নির্মাণ সহায়ক নিজে উপস্থিত হয়ে মাটির পরিমাণ মেপে মজুরি ঠিক করেন। তবে বিক্ষোভকারীদের তরফে দুর্নীতির অভিযোগ মানতে নারাজ ওন্দা ১ নং পঞ্চায়েতের প্রধান। তিনি আরও জানান, যতদিন তিনি প্রধানের দায়িত্বে আছেন ততদিন কোনও দুর্নীতি হয়নি। শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে দাবির বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান মিঠু মাল৷

এদিকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ নিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়তেরই পাশে দাঁড়িয়েছেন ওন্দা তৃণমূল ব্লক সভাপতি অশোক চট্টোপাধ্য়ায়। একইসঙ্গে এলাকার শ্রমিকদের তোলা অভিযোগও মানতে চাননি তিনি৷ তৃণমূল নেতা অশোক চট্টোপাধ্যায় জানান, পঞ্চায়েত প্রধান-সহ পঞ্চায়েতের অন্যরাও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছেন। শ্রমিকদের ভুল বোঝানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওই তৃণমূল নেতার।

ওন্দার বিডিও বিমল কুমার শর্মা শ্রমিকদের বিক্ষোভের কথা শুনে জানান, এই বিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজে হাজিরা দিলেই ১৯১ টাকা মজুরি পাওয়ার সংস্থান নেই। ৫৪ সিএফটি মাটি কাটলে তবেই ওই মজুরি পাওয়া যায়। ওই হিসেবে মাটি কাটার পরিমাণ অনুযায়ী মজুরির টাকা নির্ধারিত হয়। শ্রমিকদের বিষয়টি বোঝানোর ব্যাপারে খামতি ছিল। বিক্ষোভকারীরা বিষয়টি বুঝবেন বলে তিনি আশাবাদী।