তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: জেলা থেকে ভবিষ্যতের আইপিএস ও আইএস তৈরি হতে ছাত্র ছাত্রীদের উৎসাহ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করল বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে তাদের তরফে কর্ম প্রার্থী তরুণ তরুণীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যেই শহরের রবীন্দ্রভবনে ‘নব দিশা’ প্রকল্পের সূচনা করলেন জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলায় প্রতিভাবান ছাত্র ছাত্রীর কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ‘নব দিশা’ প্রকল্পের কথা ভাবা হয়েছে। যেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডব্লুবিসিএস, আইপিএস, ইউপিএসসি পরীক্ষা বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি এই বিষয়ে তাদের আগ্রহী করে তোলা হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, প্রতি বছর নিয়ম করে এই জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে সেরা দশে বেশ কয়েক জন ছাত্র ছাত্রী থাকেন। কিন্তু তারা সহ অন্যান্য কৃতি ছাত্র ছাত্রীদের বেশির ভাগই ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তেই বেশি আগ্রহী হয়। সিভিল সার্ভিসে খুব আগ্রহ প্রকাশ করতে এই জেলার ছাত্র ছাত্রীদের দেখা যায় না। সেই কারণে অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পাশাপাশি সিভিল সার্ভিসেও এখানকার ছেলে মেয়েদের আগ্রহী করে তুলতে চাইছে জেলা প্রশাসন।

 

আলোচনা সভায় উপস্থিত সকলের সামনে কিভাবে এই পেশাতে সাফল্য পাওয়া যায় সেই বিষয়ে জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস, পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা বিস্তারিত আলোচনা করেন। একই সঙ্গে এদিন জানানো হয়েছে, এর পর থেকে প্রতি সপ্তাহে শনি ও রবিবার বাঁকুড়া ক্লাবে এক ঘণ্টা করে আগ্রহী ছাত্র ছাত্রীদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকের পর সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কি কি সুযোগ রয়েছে তা যেমন আলোচনা করা হচ্ছে৷ তেমনি ডব্লুবিসিএস বিষয়ে জেলার ছাত্র ছাত্রীদের আগ্রহী করে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত থাকবেন। আমাদের জেলায় প্রচুর প্রতিভাবান ছাত্র ছাত্রী আছেন। প্রতি বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল সেকথাই প্রমাণ করে।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের যদি ডব্লুবিসিএস, আইপিএস পরীক্ষা বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে পারি তাহলে ভবিষ্যতে আমরা অনেক উচ্চ পদস্থ আধিকারিক উপহার দিতে পারব। সেকারণেই বাঁকুড়া ক্লাবে ‘ক্যারিয়ার ক্যাফে’ চালু হয়েছে। আগামী দিনে এই ধরণের উদ্যোগ ব্লক ও মহকুমা স্তরে শুরু করার কথা ভাবা হয়েছে বলে তিনি জানান।

নব দিশার সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও বলেন, জেলাশাসকের নেতৃত্বে এই বিশেষ প্রকল্পের সূচনা হল। জেলার প্রতিভাবান ছাত্র ছাত্রীদের সব রকম সাহায্য করা হবে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃস্থ মেধাবী ছাত্রীদের প্রয়োজনে আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, জেলার সব ছাত্র ছাত্রীকে পেশাগত সাফল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা সব রকম সাহায্য করবেন। একই সঙ্গে দুঃস্থ প্রতিভাবানদের প্রতি তাদের বিশেষ নজর থাকবে বলেও পুলিশ সুপার জানান।

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি ছাত্র ছাত্রী থেকে কর্ম প্রার্থী সকলেই। এদিনের কর্মশালায় উপস্থিত ডব্লুবিসিএস পরীক্ষার্থী পায়েল দে জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায়৷ তিনি বলেন, আমরা জেলার ছেলে মেয়েরাও পিছিয়ে নেই। আমরাও ডব্লুবিসিএস পরীক্ষায় বসা ও সাফল্য পাওয়ার ক্ষমতা রাখি৷ সেই মনোবল এখান থেকে পেলাম। এরপর থেকে শনি ও রবিবার যেভাবে প্রশিক্ষণের কথা ভাবা হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এর ফলে তারা অনেকটাই উপকৃত হবেন বলে তিনি জানান।