বাঁকুড়া: জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসার আগেই এক কিশোরীর মৃত্যু। আর সেই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে। যদিও স্থানীয় সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের তরফে স্পষ্ট ভাবেই জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় ‘করোনা সংক্রমণের কোন যোগ নেই।’ কিন্তু তাও মানুষজনের মধ্যে আশঙ্কা কিছুতেই কাটছে না।

খবরে প্রকাশ, কোতুলপুরের মামুদচক এলাকার বছর আঠারোর এক কিশোরীকে জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে পরিবারের তরফে বুধবার স্থানীয় এক বেসরকারী নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার খবর প্রকাশ হতেই হাসপাতাল জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। যদিও হাসপাতালের তরফে সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ওই কিশোরীর মৃত্যুর পিছনে করোনা সংক্রমণের কোন সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের সুপার ডাঃ তড়িৎ কান্তি পাল নিজে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, অনেকেই এই খবরে আতঙ্কিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সকলকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, গল ব্লাডার বড় হওয়া, লিভারের সমস্যা ও পেটে জল জমার কারণেই ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে করোণা সংক্রমণে এই কিশোরীর মৃত্যু হয়নি সেব্যাপারে ‘১০০ শতাংশ নিশ্চিত’ বলেও তিনি দাবী করেন।

 

বিষ্ণুপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ জগন্নাথ সরকার এই প্রসঙ্গে ‘সাবধানের মার নেই’ জানিয়ে বলেন, মৃতার পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিএমওএইচকে মৃতার ‘ট্র্যাভেল হিস্ট্রি’, সংক্রমণের সম্ভাবনা সহ যাবতীয় রিপোর্ট জমা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।