তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: শীত মানেই ভ্রমণপ্রিয় বাঙালির ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়া। কাছে-পিঠে হোক বা দূরে অন্তত কয়েকটা দিনের জন্য হলেও অনেকেই প্রাত্যহিক রোজনামচার বাইরে বেড়িয়ে আসতে চান। আর বাঙালির বেড়ানোর ঠিকানায় নবতম সংযোজন বাঁকুড়ার বড়দি পাহাড়। বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল এলাকার এই বড়দি পাহাড়ের নৈঃস্বর্গিক মনোরম পরিবেশ পর্যটকদের নজড় কাড়বে তা বলাই বাহুল্য।

বড়দি পাহাড়ের আনাচে -কানাচে রয়েছে অপরূপ সব সৌন্দর্য। জল, জঙ্গল আর প্রাকৃতিক ঝর্ণা মন ভরাতে ভ্রমণ পিপাসুদের। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্যও এল তল্লাটে নানা উপাদান আছে। সরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘কটেজে’ থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। কটেজে বসেই দেখা যায় ঘন শালের জঙ্গল। তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে পারেন কংসাবতী নদীর তীরে বড়দি পাহাড়ে রাতের নিঃস্তব্ধতা। উপরি পাওনা হিসেবে ঘন শাল জঙ্গলের ভিতর থেকে ভেসে আসা শীতের রাতের টাটকা বাতাস।

বাঁকুড়া- রাইপুর রাজ্য সড়কের উপর পিড়রগাড়ি মোড় থেকে মহকুমা শহর খাতড়া যাওয়ার রাস্তা থেকে মাত্র ৬ কিমি দূরে চুয়াগাড়া মোড়। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় তৈরি রাস্তা আর কিছুটা লাল মোরাম বিছানো রাস্তা ধরে মাত্র ৪ কিমি গেলেই পৌঁছনো যাবে সারেঙ্গার নেতুরপুর পঞ্চায়েতের কালাপাথর গ্রামে। আর এই গ্রামেই রয়েছে বড়দি পাহাড়। পাহাড়ে গা ঘেঁষে আপন বেগে বয়ে চলেছে কংসাবতী নদী। নদীর তীরে কালাপাথর গ্রামে রয়েছে একটি ঝর্ণা। স্থানীয় মানুষের কাছে যা ‘কালাঝর্ণা’ নামে পরিচিত।

এই মুহূর্তে বাঁকুড়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে পাশের জেলাগুলি থেকেও অনেক পর্যটক এখানে আসছেন। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সেই সংখ্যাটা আরো অনেক গুণ বেড়ে যায়। অনেকেই মূলত বনভোজনের জন্য এই জায়গাটিকে বেছে নেন। সেই কারণেই ছোটো বড় সকলের কাছে বড়দি পাহাড়কে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি পর্যটকদের থাকার জন্য তৈরি হয়েছে সুদৃশ্য কটেজ। একই সঙ্গে চাইলে স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠী গুলির মাধ্যমে রান্না করা খাবারও মিলবে একেবারে সুলভ মূল্যে।

বাঁকুড়ার বড়দি পাহাড়ে বেড়াতে আসা এক পর্যটক অনিমা মোহান্তি জানান, একেবারে গ্রাম্য পরিবেশে অসাধারণ জায়গা বড়দি পাহাড়। আগে পরিকাঠামোর ভীষণ অভাব ছিল। এখন অনেক কিছুই তৈরি হয়েছে। এক দু’দিনের জন্য ছুটি কাটানোর আদর্শ জায়গা এই বড়দি পাহাড়।

সারেঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি শেখর রাউৎ জানান, প্রাক্তন সাংসদ মুনমুন সেনের সাংসদ এলাকা উন্নয়নের তহবিলে কটেজ সহ কমিউনিটি হল তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে খুব দ্রুততার সঙ্গে বড়দি পাহাড়ে শিশু উদ্যান তৈরিরও চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও এখানে আসা কোনও পর্যটক যাতে নিরাপত্তার অভাব বোধ না করেন সেই বিষয়টিও প্রশাসন নিশ্চিত করতে চাইছে বলে তিনি জানান।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও