স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: দুর্নীতি ও স্বজন পোষণের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামল বিজেপি। মঙ্গলবার ওই দলের পক্ষ থেকে বাঁকুড়ার পাত্রসায়রের বিডিওকে দশ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। এদিন বিজেপির পাত্রসায়র মণ্ডল-২ সভাপতি তমাল কান্তি গুঁইয়ের নেতৃত্বে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা মিছিল করে ব্লক অফিসে পৌঁছান। পরে তাদের একটি প্রতিনিধি দল বিডিও-এর সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবিপত্র তুলে দেন।

২০১১ পরবর্তী সময়ে জেলার অন্যান্য অংশের সঙ্গে পাত্রসায়র তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু সব হিসেব নিকেশ পালটে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিষ্ণুপুর সহ জেলার দু’টি কেন্দ্রই তৃণমূলের হাত থেকে বিজেপি ছিনিয়ে নিয়েছে৷ ফলত অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়ে শাসক শিবির। বিজেপি নেতৃত্বের তরফে এদিন তৃণমূলের দুর্নীতির অভিযোগ তোলে৷ তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা সহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের কাছ থেকে শাসক দল তোলা তুলেছে৷

ডেপুটেশন শেষে পাত্রসায়র মণ্ডল-২ সভাপতি তমাল কান্তি গুঁই শাসক দলের ধারাবাহিক দুর্নীতি বন্ধের দাবি তোলেন৷ বলেন, অনেককে বঞ্চিত করে সরকারি প্রকল্পে এক-একটি পরিবারকে একাধিক বাড়ি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রাস্তা ঘাট, পানীয় জল সহ দশ দফা দাবি বিডিওর কাছে পেশ করা হয়। তাদের সমস্ত দাবি বিডিও বিচার বিবেচনা করে দেখবেন বলে জানিয়েছেন এমনটাই এদিন বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হীড়বাঁধ ব্লক এলাকার তৃণমূল পরিচালিত মলিয়ান, মশিয়াড়া, গোপালপুর, হীড়বাঁধ ও বহড়ামুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে আলাদা আলাদাভাবে ২০ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিল বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, খাদ্য সুরক্ষা কার্ড, বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা, শৌচাগার নির্মাণ সহ বেশ কিছু প্রকল্পে শাসক দল দুর্নীতি ও স্বজন পোষণ করেছে অভিযোগ করা হয়। এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তারা প্রতিটি পঞ্চায়েত প্রধানকে স্মারকলিপি তুলে দেন।

বিজেপির হীড়বাঁধ মণ্ডল সভাপতি গোপাল হেমব্রম বহড়ামুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে দলের ডেপুটেশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শাসক দল সর্বত্র দুর্নীতি করেছে অভিযোগ তোলেন৷ বলেন, বিগত আর্থিক বছরগুলির পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ ও খরচের হিসাব পেশ করতে হবে। সঠিক উপভোক্তাদের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও তোলেন তিনি৷

বলেন, এক্ষেত্রেও শাসক দল ব্যাপক দুর্নীতি করেছে। একই কাছের লোকেদের বিনা টেণ্ডারে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে এদিন তিনি সরব হন। এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ হিসাব না পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি পঞ্চায়েতে অচলাবস্থা তৈরির হুঁশিয়ারিও দেন আন্দোলনরত বিজেপি নেতৃত্ব।