ফাইল ছবি৷

কলকাতাঃ  গোটা দেশজুড়ে আছড়ে পড়ল গেরুয়া সুনামি। ঝড়ের আঁচ পড়ল বাংলাতেও। বিজেপি হাওয়াতে কুপোকাত তৃণমূল। উন্নয়নের নিরিখে যে সমস্ত জায়গায় মানুষের ভোট চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে রকম একাধিক জায়গায় বাড়বাড়ন্ত হয়েছে বিজেপি। সেই সমস্ত জায়গায় ধারে কাছে নেই তৃণমূল কংগ্রেস। যেমন বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্র। এই লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে থাকা ৭টি বিধানসভাতেই ‘লিড’ পেয়েছে বিজেপি। এভাবেই বিজেপির উত্থানে খুশি সেখানকার বিজেপির নেতা-কর্মীরা।

এবার বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের দিকে বিশেষ নজর ছিল। কারণ এই সমস্ত জায়গায় বিজেপির বাড়বাড়ন্ত যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল তৃণমূলের কাছে। আর সেজন্যে রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের বর্ষিয়ান নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে সামনে দাঁড় করিয়ে বৈতরনী পাড় হওয়ার চেষ্টা করেছিল তৃণমূল। কিন্তু সেখানে সুভাষ সরকারের মতো প্রার্থী করে বিজেপি। মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে প্রচার করেন সুভাষবাবু। যদিও সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সমর্থনে একাধিকবার বাঁকুড়ায় ছুটে গিয়েছেন মমতা। এই লোকসভার একাধিক বিধানসভায় প্রচার করেছেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু শেষ বেলায় ফলাফল বলছে বাঁকুড়ার একাধিক বিধানসভায় এগিয়ে বিজেপিই।

বাংলা এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক, রঘুনাথপুর বিধানসভায় তৃণমূলকে বিজেপি কার্যত বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। এদিন পোস্টাল ব্যালট গণনার আগেই বিজেপি জয়ের মুখ দেখে। ইভিএম গণনার পর দেখা যায়, রঘুনাথপুরে বিজেপি প্রার্থী সুভাষ সরকার ৪০ হাজার ৪৩৩ ভোটে লিড পেয়েছেন। অন্যদিকে শাসক দলের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত শালতোড়া বিধানসভাতেও তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। ওই কেন্দ্রে বিজেপি ১৫ হাজার ৫৬ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছে। জঙ্গলমহলের রানিবাঁধ, তালডাংরা এবং রাইপুরেও সুভাষবাবু বাজিমাত করেছেন। তবে এই ফলাফলের সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের হিসেব যোগ করলে ব্যবধানের সামান্য তারতম্য ঘটবে।

তথ্য বলছে রঘুনাথপুরে বিজেপি প্রার্থী সুভাষবাবু পেয়েছেন ১ লক্ষ ৯ হাজার ৬৩২ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায় পান ৬৯ হাজার ১৯৯টি ভোট। সিপিএম প্রার্থী অমিয় পাত্র ১১ হাজার ৫৬৬টি ভোট পান। শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সুভাষ সরকার পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৭৩ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায় পান ৭৪ হাজার ১৭টি ভোট। সিপিএম প্রার্থী অমিয় পাত্র ১৩ হাজার ৬৪৮টি ভোট পান। ছাতনা বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী সুভাষবাবু পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৬৬১ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায় পান ৬৪ হাজার ৪৭৯টি ভোট। সিপিএম প্রার্থী অমিয় পাত্র ১১ হাজার ১৩২টি ভোট পান। ওই বিধানসভায় বিজেপি ৩১ হাজার ১৮২ ভোটে লিড পেয়েছে।

তালডাংরায় বিজেপি প্রার্থী সুভাষ সরকার ঝুলিতে গিয়েছে ৮৭ হাজার ৮২৬ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫৫৮টি ভোট। সিপিএম প্রার্থী অমিয় পাত্র ২০ হাজার ৫৬৯টি ভোট পান। ওই বিধানসভা এলাকায় সুভাষবাবু ১৭ হাজার ২৬৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। রানিবাঁধে বিজেপি প্রার্থী সুভাষ সরকার পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৯৫৬ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায় পান ৭৮ হাজার ১৪২টি ভোট। সিপিএম প্রার্থী অমিয় পাত্র পেয়েছেন ১৬ হাজার ৫৩৮টি ভোট পান। ওই বিধানসভা ক্ষেত্রে বিজেপি ১৫ হাজার ৮১৪ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে। এছাড়াও রাইপুর ও বাঁকুড়া বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী ৩৫ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। সব মিলিয়ে যা দেখা যাচ্ছে যদি এখনই ভোট হয় তাহলে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভাই বিজেপির হাতে যাচ্ছে।