মুম্বই: বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস মহামারীর আকার ধারণ করেছে ৷ এই অবস্থায় করোনা ভাইরাস যাতে গোটা দেশে ছড়িয়ে না পড়ে তারজন্য গত সপ্তাহ থেকে ২১ দিনের লক ডাইন শুরু হয়েছে ৷ তবে তার জেরে রীতিমতো বিপাকে পড়েছে জনগণ৷ সেই কথা ভেবে একে একে বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হচ্ছে৷ যেমন আর্থিক সংকটে পড়া ঋণ গ্রহীতাদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে রিজার্ভ ব্যাংক মেয়াদি ঋণের উপর ইএমআই দেওয়ার ক্ষেত্রে তিন মাসের মোরাটোরিয়াম ঘোষণা করেছে৷

রিজার্ভ ব্যাংকের ওই ঘোষণার পর অনেক ঋণগ্রহীতা স্বস্তি পেলেও বাস্তবে কিন্তু দেখা গিয়েছে তার পরেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অথবা আর্থিক সংস্থা ইএমআই কেটেছে। যার ফলে কিছুটা ধন্দ বেড়েছে ইএমআই দাতাদের মধ্যে।

তবে এক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার রিজার্ভ ব্যাংক শুধুমাত্র ব্যাংকগুলিকে প্রস্তাব দিয়েছে। এরপর প্রত্যেক ব্যাংক আলাদা ভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বোর্ডে বিষয়টিকে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে ৷ তার অর্থ, কারও ইএমআই-এর কাটার তারিখ এসে গেলে এবং তখনও পর্যন্ত এই ব্যাপারে ওই ব্যাংক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতেই ইএমআই কেটে নেবে।

তবে আস্তে আস্তে বেশ কিছু ব্যাংক ইতিমধ্যেই জানাতে শুরু করেছে তারা গ্রাহকদের এই সুবিধা দেবে এবং আগামী তিনটি ইএমআই আপাতত কাটবে না। ইতিমধ্যে যেসব ব্যাংকগুলি রিজার্ভ ব্যাংকের ডাকে সাড়া দিয়ে তিন মাসের জন্য ইএমআই নেওয়া‌ স্থগিত রেখেছে তাদের মধ্যে রয়েছে- স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাংক অফ বরোদা, ইউনিয়ন ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া,পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, আইডিবিআই ব্যাংক, সিন্ডিকেট ব্যাংক, ইউকো ব্যাংক ইত্যাদি। এইসব বিভিন্ন ব্যাংক হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অথবা টুইটারে জানিয়ে দিচ্ছে তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা। বিভিন্ন মহলের ধারণা, আরও অন্যান্য ব্যাংক আস্তে আস্তে এই ব্যাপারে সাড়া দেবে।

তাছাড়া এক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার এটা কিন্তু ইএমআই মকুব নয় বরং বলা যেতে পারে তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। মানে তিন মাসের জন্য ইএমআই দিতে হবে না। উল্টে এই জমা স্থগিত রাখা ইএমআই পরে সুদ সহ শোধ দিতেই হবে। তবে সেটা কী ভাবে দিতে হবে সেটা ব্যাংক বা ঋণদাতা ঠিক করবে। বিভিন্ন ব্যাংকের এই পদ্ধতি আলাদাও হতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ কেউ পুরো ঋণের মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার কেউ অবশিষ্ট সময়ের ইএমআই-তে ওই তিন মাসের বকেয়া ইএমআই-এর অর্থ সমান ভাগে ভাগ করে দিতে পারে। যার জন্য অনেক আর্থিক পরামর্শদাতার অভিমত , যারা ইএমআই দিতে পারবেন তাদের তা দিয়ে দেওয়াই ভালো।