কলকাতা: দয়া করে মনে রাখবেন এই ধর্মঘটের জন্য ব্যাংক কর্মীদের দু’দিনের মাইনে কাটা যাচ্ছে ৷ ধর্মঘটের জন্য গ্রাহক হয়রানি প্রসঙ্গে এমনটাই জানালেন বিপিবিইএ-র সহ সভাপতি সলিল চক্রবর্তী৷ তাঁর যুক্তি একান্ত বাধ্য হয়েই তারা এই ধর্মঘটে গিয়েছেন৷ পাশাপাশি অবশ্য তিনি এই হয়রানির জন্য গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন৷

আজ বুধবার এবং আগামিকাল বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ব্যাংক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে কর্মী এবং অফিসারদের ন’টি সংগঠনের যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস ৷ তবে শুধুমাত্র বেতন বৃদ্ধির দাবিতে এই ধর্মঘট নয় বলেই এই ইউনিয়ন নেতা দাবি করেছেন৷ এফআরডিআই বিল, অনুৎপাদক সম্পদ বৃদ্ধি আটকানো, নীরর মোদী বিজয় মালিয়ার মতো ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করা শিল্পপতিদের শাস্তির দাবি সহ বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক নীতির বিরোধিতা করাটাও এই ধর্মঘটের উদ্দেশ্য৷

বেতন বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি মনে করান, আইবিএ ২শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির যে অফার দিয়েছিল তা পুরোপুরি প্রত্যাখান করে ব্যাংক কর্মী ও অফিসারেরা। কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন আগেরবার বেড়েছিল ১৫ শতাংশ৷ তবে তা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বেশির ভাগ জায়গায় কর্মীরা ধর্মঘট বা বন্ধের দিন কাজ করেন না অথচ বেতন নেন৷ কিন্তু ব্যাংক কর্মীরা সেটা করে না তারা ধর্মঘটের দিন কাজ করেন না বলে প্রতিবাদের অঙ্গ হিসেবে বেতনও গ্রহণ করেন না৷ ফলে এই দু’দিন গ্রাহক হয়রানির পাশাপাশি ধর্মঘটের জন্য ব্যাংক কর্মী ও অফিসারদের বেতন কাটা হচ্ছে ৷

এই ধর্মঘটের ফলে এটিএম থেকেও দুদিন টাকা তোলা যাবে না৷ ফলে কিছু গ্রাহক মঙ্গলবার রাতে এটিএম থেকে টাকা তুলতে গিয়ে টাকা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে ৷ গ্রাহকদের এই হয়রানির জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দিকেই আঙুল তুলেছে সলিলবাবু৷ তার যুক্তি, এটিএমে টাকা ভরার দায়িত্ব বাইরের বেসরকারি সংস্থার হাতে ছেড়ে দিয়েছে ব্যাংক আর তার জন্য এই দশা৷

আপাতত দুদিনের ধর্মঘটের যদি সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না মেলে তখন মাইনে কাটলেও লাগাতার ধর্মঘটের দিকে যেতে বাধ্য হতে পারেন তাঁরা ৷ তবে পরিস্থিতি বিচার করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস নেবে বলে তিনি জানান ৷