স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট : ২০২১-এর ভোটে হারবেন, সেই ভয় পাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাই এনআরসির বিরোধিতা করে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের ভোটের কাজে লাগাতে চাইছেন তিনি৷ এমনই দাবি বিজেপির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের৷

তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে লকেট চট্টোপাধ্যায় জানান, শুধু এনআরসি’ই নয় ভোটের স্বার্থে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য গড়া মোটর ভেহিকেলস আইনকেও এরাজ্যে তিনি বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছেন৷ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে দুই দিনের জন্য দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: মমতা যখন রাস্তায় যখন তখনই চাকরির দাবিতে নবান্ন অভিযান শুরু বাম ছাত্রযুব

স্থানীয় রেণুকা লজের বিধানসভা ভিত্তিক কর্মী বৈঠকও করেন লকেট৷ তার আগে সাংবাদিকদের কাছে এরাজ্যে এনআরসি চালু প্রসঙ্গে লকেট চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন যে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার ২০২১এ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে ব্যবহার করার লক্ষ্যে এগোচ্ছেন৷

এই রাজ্য সরকার এমনিতেও পড়ে যেত৷ এবার এনআরসি চালু হয়ে গেলে সেইটুকু আশাও থাকবে না। সেই জন্যই তিনি চাইছেন যে যদি অনুপ্রবেশকারীদের বের করে না দেওয়া হয়।

এই বিজেপি সাংসদের অভিযোগ রোহিঙ্গা থেকে শুরু করে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী যারা এসেছেন তাঁদের সরকারি ভাবে জাল ভোটারকার্ড বানিয়ে দেওয়া পাশাপাশি আস্তানাও করে দেওয়া হচ্ছে এরাজ্যে। এর অন্যতম কারণই হলো যে অনুপ্রবেশকারীরাই একমাত্র সম্পদ তৃণমূল কংগ্রেসের৷

একই সঙ্গে এরাজ্যে সদ্য সংযোজিত এমভিআই আইন চালু প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে মানুষের প্রাণের দাম কেন্দ্র সরকারের কাছে আছে। কিন্তু মমতা বন্দোপাধ্যের কাছে ভোটের দাম থাকলেও মানুষের প্রতি তা নেই বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এব্যাপারে লকেট চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন কলকাতা শহরের এমন কিছু এলাকা রয়েছে যে সেখানে বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষেরা একই বাইকে চারজন পাঁচজন চড়ে যাচ্ছেন। পুলিশের সামনে দিয়েই বিনা হেলমেটে অবাধ যাতায়াত তাঁদের।

আরও পড়ুন : Breaking: ‘দিদি’কে নিয়ে কুরুচিকর পোস্ট, অভিযোগ দায়ের ছাত্রীর বিরুদ্ধে

তাঁর অভিযোগ, বিশেষ সেই সম্প্রদায়ের কথা ভেবেই মমতা বন্দোপাধ্যায় মোটর ভেহিকেলস আইন এরাজ্যে চালু করতে চাইছেন না। তাঁদের যদি আইনে জরিমানা বা কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাহলে তৃণমূলের ভোট ব্যাংক নষ্ট হবে বলেও বিজেপি সাংসদ বালুরঘাটে অভিযোগ করেছেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন জেলায় অস্ত্র কারখানার হদিশ পাওয়া নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে ছাড়েননি লকেট চট্টোপাধ্যায়। এরাজ্যে সন্ত্রাসবাদীরা প্রথমে আস্তানা গেড়ে নেয়, তারপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা করে বলে দাবি এই সাংসদের৷ যে কারণে এখানে বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক অস্ত্র কারখানা গড়ে উঠেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।