নয়াদিল্লি: সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসে অপকর্ম করাটা বাংলাদেশি দুষ্কৃতিদের কাছে নতুন কিছু নয়। তবে সেই তাণ্ডব কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গ বা সীমান্ত লাগোয়া অন্যান্য রাজ্যগুলিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। দেশের গভীরে খুব একটা বাংলাদেশি দুষ্কৃতিদের দাপট দেখা যেত না।

কিন্তু সেই সকল পুরনো ধারণা বদলে দিল পাঁচ জন দুষ্কৃতীর একটি দল। যাদের সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক। ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিল জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে। সঙ্গে ছিল মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র।

ওই পাঁচ ডাকাত আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দক্ষিণ দিল্লির তৈমুর নগর এলাকায় হাজির হয়েছিল। একটি বাড়িও নিদিষ্ট করে ফেলছিল ডাকাতির জন্য। কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় তা আর সম্ভব হয়নি। তবে নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে এবং গা বাঁচাতে শেষে মরণ কামড় দিয়েছিল ডাকাতেরা। যদিও শেষ হাসি পুলিশই হেসেছে।

শুক্রবার গভীর রাতে ডাকাতির জন্য ওই পাঁচ জন তৈমুর নগরে জমায়েত হয়। পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ বাহিনী। আত্মসমর্পণ করার কথা বলা হয় ওই পাঁচ জনকে। কিন্তু পুলিশের কথা অগ্রাহ্য করে উলটে পুলিশকে লক্ষ্য করেই গুলি ছুঁড়তে থাকে ডাকাতেরা। পালটা জবাব দেয় পুলিশ। তাতেই হার মানতে হয় ডাকাত বাহিনীকে। পাঁচ জনের মধ্যে দুই জনের শরীরে গুলি লাগে। বাকি তিন জনকে ধরে ফেলে পুলিশ। ধৃতদের থেকে বেশ কয়েকটি পিস্তল, গুলি এবং তালা ভাঙার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

সমগ্র গুলির লড়াই হয়েছে মাত্র ১৫ মিনিট সময়ের মধ্যে। দিল্লি পুলিশের এসিপি(ক্রাইম) রাজীব রঞ্জন জানিয়েছেন যে তৈমুর নগরের এনকাউন্টার হয়েছে শুক্রবার এবং শনিবারের মাঝে রাত ১২টা বেজে ১৫ মিনিট থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে। গুলিবিদ্ধ দুই ডাকাতের অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন এসিপি। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “এই ডাকাত দল বেঙ্গালুরু, কোটা এবং দিল্লিতে একাধিক অপরাধ করেছে। বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে এদের যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে।” এই ডাকাত দলের সদস্যরা ধর্ষণ এবং খুনের মতো অপরাধও করতে পারে বলে দাবি করেছেন দিল্লি পুলিশের এসিপি(ক্রাইম) রাজীব রঞ্জন।