ঢাকা: অভিযোগ এক মাদ্রাসা শিক্ষক ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছিলেন৷ অভিযোগকারিনী ছাত্রী পুলিশের কাছে সব খুলে বলেছিল৷ তারপরেই তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় দগ্ধ ছাত্রীর অবশেষে মৃত্যু হল৷ ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন৷ ঘটনায় ফের উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে বাংলাদেশের পড়ুয়া সমাজ৷

নিহত মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বাড়ি ফেনীতে৷ সিঙ্গাপুরে নিয়ে গিয়ে তাঁর চিকিৎসার খরচ বহন করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ নুসরাতের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন৷

গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরেই নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় কয়েকজন৷ গুরুতর দগ্ধ হয়ে ওই ছাত্রী পরে বয়ান দিয়েছিলেন ঠিক কি ঘটেছিল৷ তিনি জানান, পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরখাপরা মহিলা৷ তারপর তারই গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়৷

এই ঘটনা পরিকল্পিতভাবে খুনের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করে নুসরাত৷ পরে চাপের মুখেও সেই মামলা তুলে না নেওয়ায় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷

ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়৷ দ্রুত সেই ছাত্রীকে ঢাকায় এনে চিকিৎসা করানো হচ্ছিল৷ সেখানেই শেষ জবানবন্দিতে পুরো ঘটনা তুলে ধরে৷ এদিকে চিকিৎসকদের চেষ্টা বিফলে গেলে যোগাযোগ করা হয় সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত হাসপাতালের সঙ্গে৷ তাঁরাও কিছু পরামর্শ দেন৷ কিন্তু বুধবার প্রবল শ্বাসকষ্টের পর আর জ্ঞান ফেরেনি নুসরাতের৷ পরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে একথা জানিয়ে দেন বিশিষ্ট চিকিৎসক সামন্ত লাল সেন৷