বিশেষ প্রতিবেদন: ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে পরাজয় নাকি ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখা৷ দুই বিপরীতমুখী অবস্থান ঘিরে তোলপাড় হতে শুরু করেছে বাংলাদেশ৷ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতীক মূর্তি৷  সরকারের এই অবস্থানকে সমর্থন করেছে কট্টরপন্থী ধর্মী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম৷  প্রতিবাদে সামিল বাংলাদেশি সুশীল সমাজ৷ ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করলেন মুক্তমনা চিন্তাবিদরা৷

আবদুল গাফফার চৌধুরী (একুশে গানের রচয়িতা):  ১৯৫২ সালের রক্তাক্ত ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে অমর একুশে গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘হিন্দুরা দেশত্যাগ করছে। প্রগতিশীল ও আলোকিত মুসলমানরাও তো থাকতে পারবে না। শুনেছি পুলিশ পাহারায় পূজা করতে হয়। এ অবস্থা তো আমরা চাইনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমি বলেছি, এটা কবরের শান্তি। উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন, আইনের শাসন।‘ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন৷

আওয়ামি লিগ নেতৃত্বাধীন সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন গাফফার চৌধুরী৷ তিনি বলেন, অত্যন্ত শঙ্কার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, পাঠ্যবইয়ে রবীন্দ্রনাথ থাকছেন না, বেগম রোকেয়া ও জীবনানন্দ বাদ হয়ে যাচ্ছেন। হেফাজতিরা একেবারে মূল জায়গায় হাত দিয়েছে। তাহলে কি ঈশ্বরচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু, নজরুল ও জীবনানন্দের বাংলাদেশ থাকবে না? তেঁতুল পীর সাহেবের বাংলাদেশ হয়ে যাবে?

হেফাজতে ইসলামের হুমকির জেরে সরকারের অবস্থানের পর থেকেই প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছে বৃহত্তর বাঙালি জাতি৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্র-ছাত্রীরা৷ পুলিশ লাঠি চার্জ করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়৷ ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস৷ কয়েকজন ছাত্র নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷

প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা৷

 

 

 

 

 

 

কামাল লোহানী (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব):   মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যে মানুষগুলো এবং লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশে আমরা এগুলো  কিছুতেই মেনে নেব না।

সুলতানা কামাল (মানবাধিকার কর্মী) : এ তো বিরাট আপসকামিতার রাজনীতি। আওয়ামি লিগ যে মৌলবাদীদের সঙ্গে যুক্তহয়েছে, তার একটা অংশ হিসেবে এটা হলো

প্রতিবাদ হতে শুরু করেছে বাংলাদেশের সর্বত্র৷ বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এই প্রতিবাদে সামিল হচ্ছেন৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা৷ এরই মাঝে হেফাজতে ইসলাম  শীর্ষ নেতৃত্বের হুমকি, এবার বাংলাদেশের কোথাও কোনও মূর্তি রাখা চলবে না৷ মুক্তমনা বুদ্ধিজীবীদের অনেকের প্রশ্ন, হেফাজতে ইসলামের আগ্রাসী  মনোভাবের জেরে কি শেখ হাসিনা তাঁর পিতা তথা বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের কোনও ভাস্কর্য সরিয়ে দেবেন?

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’ নামে একটি সংগঠন মৌলানা আজাদ কলেজের বেকার হোস্টেল থেকে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি সরানোর দাবি করে৷ সংগঠনটির দাবি, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হেনেছে শেখ মুজিবর রহমানের মূর্তি। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কোনও অবস্থাতে ওই মূর্তি সরানো হবে না৷