নারায়য়ণগঞ্জ: বাংলাদেশের করোনা হটস্পট বলে এখন ভয়াবহ স্থান নারায়ণগঞ্জ। দেশজুড়ে ভাইরাস সংক্রামিতদের ৫০ শতাংশের বেশি এই জেলা ও রাজধানী ঢাকা। পরিস্থিতি এমন যে ভয়ে আতঙ্কে মৃতদেহ সৎকার করার কেউ নেই। হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় পুর প্রশাসন

বিবিসি জানাচ্ছে, নারয়ণগঞ্জে সংখ্যালঘু হিন্দুদের মধ্যে যারা করোনায় মারা গিয়েছেন তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে এগিয়ে এসেছেন মুসলিমরা। তাঁরাই হিন্দু রীতি মেনে মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে গিয়ে মুখাগ্নি করেছেন। ধর্মীয় সহাবস্থানের এমনই একের পর এক ঘটনা ঘটেছে করোনার হচস্পটে।

জানা গিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের একজন সংখ্যালঘু হিন্দু ব্যবসায়ী তার ছয় বন্ধুকে নিয়ে নিয়ে একটি সাত তলা ভবন তৈরি করেছিলেন। ইচ্ছে ছিল, সবাই কাছাকাছি থাকবেন। ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাসের শিকার হলে আবাসনের সবাই তাঁকে এড়িয়ে চলতে থাকেন।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, বারবার সাহায্য চাইলেও কেউ জলটাও এগিয়ে দেননি। এমনই অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয় আবাসনের সিঁড়িতে। মারা যাওয়ার পর ওই ভবনের সিঁড়িতেই পড়েছিল তার মৃতদেহ ঘণ্টা খানেকেরও বেশি।

পরে মৃতের বাড়ির তরফে স্থানীয় সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকারের সঙ্গ যোগাযোগ করা হয়। ওই কাউন্সিলরের নেতৃত্বে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী ওই ব্যক্তির শেষকৃত্য করেন। রীতি মেনে হিন্দু মতেই দাহ সম্পন্ন করেন তাঁরা।

স্থানীয় কাউন্সিলর মকছুদুল আলম জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাসে মৃত আরও অনেকের মরদেহ দাফন বা সৎকার করেছেন। হিন্দু ব্যবসায়ীকে চিতায় তোলার কিছু আগে এক মুসলিমকে কবরস্থ করে আসা হয়। আমরা নিজেরাই ওই ব্যক্তির মুখাগ্নি করেছি।

করোনানাভাইরাসে মারা যাওয়া ৩৪টি মরদেহ দাফন ও সৎকার করেছেন তিনি এবং সহযোগীরা।এর মধ্যে ছয় জন হিন্দু ছিলেন। আর বাকিরা মুসলিম। এই ছয় জনের মধ্যে পরিবারের কোন সদস্য না আসায় অন্তত তিন জনের মুখাগ্নি করেছেন কাউন্সিলর নিজেই।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প