ঢাকা: লেবাননের রাজধানী বেইরুটের বন্দরে বিস্ফোরণের কারণ দীর্ঘ সময় ধরে মজুত করা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। এই ঘটনার পর বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিকটির পূর্ণাঙ্গ তথ্য বিশ্লেষণ। এই অবস্থায় বাংলাদেশের সরকার চিন্তিত। বিবিসি রিপোর্ট, আমদানি করা এই রাসায়নিক গোডাউনে রাখার জন্য বন্দরগুলিতে কোনও নিরাপদ ব্যবস্থা নেই বলে কর্মকর্তারা বলছেন।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিক নিরাপদ আমদানি ও তদারকি করার জন্য কর্মকর্তা রয়েছেন পাঁচ জন। অভিযোগ,এর ফলে এই ভয়ঙ্কর রাসায়নিকের বেআইনি ব্যবহার হচ্ছে। লোকবলের অভাবে কিছুই করা যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা জানান, হিরোশিমায় পরমাণু বোমার ১০ ভাগের ১ভাগ শক্তি নিয়ে বেইরুটে মজুত করা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণ হয়েছে। এর তীব্রতা ও শব্দ ঘটনাস্থল থেকে ২৪০ কিলোমিটার দূরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে অনুভব করা গিয়েছিল। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো বিস্ফোরক বোমা তৈরিতে ব্যবহার হয়। ফলে এই রাসায়নিকটি জঙ্গি সংগঠনের নেক নজরে রয়েছে।

বিবিসি জানাচ্ছে, বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উৎপাদন, নিরাপদ বিক্রি, সঠিকভাবে মজুত করার বিষয়ে সরকারি কর্মীদের কাছেই তথ্য নেই। বেইরুটের বিস্ফোরণের পরেই বাংলাদেশ সরকার সতর্ক। খুলনা ও চট্টগ্রামের বন্দরে পাঠানো নির্দেশে মজুত করা রাসায়নিকের পরিমাণ জানতে চাওয়া হয়।

এছাড়া সবকটি বিভাগ, জেলার প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও অন্যান্য রাসায়নিকের মজুত তথ্য জানতে চাও হয়েছে। বেইরুট বিস্ফোরণের ঘটনায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি মৃত। সবাই লেবাননে কাজ করতেন। এছাড়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনির সেনাকর্মীরা জখম।

রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনির হয়ে লেবাননে কাজ করছেন তাঁরা। বিস্ফোরণের পরে বাংলাদেশ সরকার দেশে মজুত করা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের তথ্য জানতে চায়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রকের অধীন বিস্ফোরক দফতরের দায়িত্বে এই ধরণের রাসায়নিক আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।

বিবিসি জানাচ্ছে, কিন্তু অপ্রতুল জনবলের কারণে এরা দায়িত্বপালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বলে স্বীকার করেছে মন্ত্রণালয়ে সূত্র।এই ধরনের দাহ্য পদার্থের আমদানির অনুমতি দেয়া এবং নিরাপদ সংরক্ষিত হচ্ছে কীনা তা দেখাশোনা করাই দফতরের কাজ।

রিপোর্টে বলা হয়েছে,বেইরুটের ঘটনার পর সারা দেশে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, স্থল, নৌ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো পদার্থ আমদানি হলে তা যেন অতিদ্রুত বন্দর এলাকা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

বিবিসি জানাচ্ছে,সার এবং খনিতে বিস্ফোরক হিসেবে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের ব্যবহার বহুদিন ধরেই চলছে। এটা কীভাবে নিরাপদ রাখা হবে, কতো দিন ধরে রাখা যাবে তা নিয়ে কড়া নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়মে, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত করা স্থানও অনেক সময় গোপন রাখা হয়। এর কারণ ১৯৭০ দশক থেকে বোমা বা হাতবোমা তৈরির উপাদান হিসেবে এই রাসায়নিক ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও