টনটন: বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক উজ্জ্বলতম দিন হয়ে থাকল এই ১৭ জুন। নিজেদের রেকর্ড নিজেরাই ভেঙে ফেলল বাংলাদেশ। জয় ৫১ বল বাকি থাকতেই।

ক্যারিবিয়ানদের হারিয়ে দিল একদল বাঙালি। তাও আবার ৩২১ রান তাড়া করে। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক রেকর্ড। যদিও এই রেকর্ড বাংলাদেশের কাছে নতুন কিছু নয়। গত ২০১৫ সালের বিশ্বকাপেও এমনই রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই একই রান তাড়া করেছিল বঙ্গবন্ধুর দেশের ক্রিকেটাররা।

সেই সময় বিপক্ষ ছিল আন্ডারডগ। সেই দুর্বল দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয় অপ্রত্যাশিত ছিল না। কিন্তু এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যাদের মুকুটে একাধিক বিশ্বকাপ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে অনেক রেকর্ড। বর্তমান দলেও রয়েছে একাধিক তারকা খেলোয়াড়। সেই দলের বিরুদ্ধেও ফের ব্যাঘ্র গর্জন শোনাল বাংলাদেশ। জয় ছিনিয়ে নিল সাত উইকেটে।

এদিন টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক মোতার্জা৷ স্বপ্নের শুর করে বাংলাদশে৷ ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই গেইলকে ড্রেসিংরুমের রাস্তা দেখান সইফুদ্দিন৷ ১৩ বল খেললেও কোনও রান না-করে ড্রেসিংরুমে ফেরেন ক্যারিবিয়ান দৈত্য৷

ক্রিস গেইল ব্যর্থ হলেও বাংলাদেশের সামনে বড় রানের টার্গেট দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ৷ সোমবার টনটনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হোপ, লুইস ও হেটমাইয়ারের ব্যাটে তিনশোর গণ্ডি টপকে যায় ক্যারিবিয়ানরা৷ শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২১ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ৷

সেই রান তাড়া করতে নেমে প্রথম জুটিতে ৫২ রান করে তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার। ২৩ বলে ২৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে রাসেলের বলে গেইলের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়ানে ফিরেন যান সৌম্য। এরপরে ব্যাট করতে নামেন শাকিব। শুরু থেকেই ঝড় উঠেছে তাঁর ব্যাটে। স্ট্রাইক রেট কখনও ১০০-র নিচে নামেনি। ইংল্যান্ডের পর অয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেও শ্তরান করেছেন বাংলাদেশের এই তারকা ক্রিকেটার। ২০১৯ বিশ্বকাপে তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে জোড়া সেঞ্চুরি করে ফেললেন শাকিব আল হাসান।

শুরুতে শাকিবের সঙ্গে দিয়েছিল অপেনার তামিম। ১৮ ওভারের মাথায় তিনি রান আউট হয়ে যান। এরপরে ব্যাট করতে নামেন মুশফিকুর রহমান। পরের ওভারেই তিনি উইকেট খুইয়ে ফেলেন। এরপরে শাকিবের সঙ্গ দিয়েছেন লিটন দাস। তাঁর ব্যাটেও এদিন ঝড় উঠেছে। বেশ দ্রুত্তার সঙ্গে পেরিয়ে গিয়েছেন ৫০ রানের গণ্ডি। লিটন দাসের স্ট্রাইন রেটও ১০০-র উপরেই ছিল। একটুর জন্য পার করতে পারেননি ১০০ রানের গণ্ডি।

এই জয়ের পরে বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিলের পাঁচ নম্বরে উঠে এল বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচ খেলে ওই দলের জয়ের সংখ্যা দুই। একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে খেলা হয়নি। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান পয়েন্ট টেবিলের সাত নম্বরে। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ৷