ঢাকা: রক্তাক্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রত্যক্ষ বিরোধিতা, পাকিস্তানি বাহিনির হয়ে গণহত্যায় অংশ নেওয়ায় দোষী সাব্যস্ত রাজাকার তথা উগ্র ইসলামি চিন্তাভাবনা করা মুসাকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হল। মঙ্গলবার এই কুখ্যাত যুদ্ধ অপরাধীকে সাজা শোনায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়ার আব্দুস সামাদ ওরফে ফিরোজ খাঁ ওরফে মুসার মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণার পরেই কড়া নিরাপত্তা জারি হয়েছে এলাকায়।

সাঁওতাল পল্লীতে গণহত্যা: ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। সেই সময় গোটিয়া গ্রামে আদিবাসীদের পরপর খুনে জড়িত মুসা ওরফে আব্দুস সামাদ ও পাকিস্তানি সেনা।

রায়ে বলা হয়েছে, আবদুস সামাদের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১২ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিতে থাকে। ১৯ এপ্রিল ৩০-৪০ জনে পাকিস্তানি সেনাকে বাঁশবাড়িয়া গ্রামে গিয়েছিল মুসা। সেখানে আটক করা হয় ২১ জনকে। তাদের কয়েকজনকে গুলি করে খুন করা হয়। স্থানীয় আদিবাসীদের গ্রামে ঢুকে গণহত্যা চালায় মুসা।

এরপর ভারতীয় সেনার সহযোগিতায় বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী দেশ স্বাধীন করে। কিন্তু ছাড় পেয়ে যায় মুসা। উগ্র ইসলামি চিন্তাভাবনায় জড়িত মুসার বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় কোনও মামলা হয়নি। ২০১৭ সালে ২৪ জানুয়ারি একটি নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুরু হয় সাঁওতাল পল্লীতে গণহত্যার মামলা। সেই মামলায় প্রাণদণ্ডের সাজা হল মুসার।

আইন অনুযায়ী মুসা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন জানাতে পারবে। মামলায় ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর ঋষিকেশ সাহা ও প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার টানা তিনবার ক্ষমতায় রয়েছে। প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযুদ্ধে পাক সেনার হয়ে গণহত্যা অংশ নেওয়া ও স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু করেছে। জামাত ইসলামি শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি হয়েছে, কয়েকজন যাবজ্জীবন জেল খাটছে।