ঢাকা: শর্ত মেনে ফর্মুলা গোপন রাখতে হবে। এতে রাজি হওয়ায় বিশ্বজোড়া আলোড়িত রুশ করোনা টিকা স্পুটনিক ভি উৎপাদনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সেক্ষেত্রে রাশিয়ার দাবি করা বিশ্বে প্রথম করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন (টিকা) উৎপাদন করতে চলেছে বাংলাদেশ সরকার। রাশিয়ার টিকাটির কার্যকারিতা ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যান্য অধিকাংশ টিকার তুলনায় রুশ টিকা এগিয়ে।

স্পুটনিক ভি টিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলেছে আলোচনা। রুশ সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ (Tass)আগেই জানিয়েছে, এই টিকার কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্য। স্পুটনিক ভি টিকা আবিষ্কার করার পর রুশ প্রেসিডেন্টা ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, বিশ্বে করেনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় এটি প্রথম টিকা।

রুশ স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সূত্র ধরে সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ জানিয়েছিল, করোনার মতো মারণভাইরাসের মোকাবিলায় রাশিয়া সরকার পূর্বতন সেভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশযান স্পুটনিকের নামানুসারে টিকার নামকরণ করেছে। গতবছর মস্কো থেকে সেই সংবাদ প্রচারিত হয়। বিশ্বে আলোড়ন পড়ে। সেই আলোচিত টিকা দক্ষিণ এশিয়ায় তথা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশে উৎপাদন করার বিষয়ে রাজি হয়েছে রাশিয়া সরকার।

বাংলাদেশে টিকার প্রযুক্তি সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। এর জন্য ঢাকা ও মস্কোর মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে টিকা তৈরিতে রাশিয়া প্রযুক্তিগত সাহায্য করবে। বাংলাদেশি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিজ দেশেই রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি টিকা উৎপাদন করবে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, জরুরি ভিত্তিতে চাহিদা পূরণের জন্য রাশিয়া থেকে টিকা কেনা যাবে। রাশিয়ার পাশাপাশি চিনের টিকা নেবে বাংলাদেশ।

ঢাকায় বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, এটি পারস্পরিক সহযোগিতা। যখন যার প্রয়োজন হবে তখন টিকা সংগ্রহ করবে। বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্র সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশে এখন ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা দেওয়া চলছে। এর পাশাপাশি রাশিয়ার টিকা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বে ৬০টি দেশে ইতিমধ্যে এই টিকার প্রয়োগ হয়েছে। এতে কার্যকারিতাও মিলেছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও টিকা রফতানি করতে পারবে বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা রাশিয়ার টিকার গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, রাশিয়া গত বছরের ডিসেম্বরে স্পুটনিক ভি বাংলাদেশে সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশে এই টিকা উৎপাদনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। চিনের সিনোভ্যাক টিকার ট্রায়াল বাংলাদেশে করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর পরেই ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ঢাকা সফরে এসে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা সরবরাহের প্রস্তাব দেন। সরকার ওই প্রস্তাবে রাজি হওয়ায় রাশিয়া ও চিন পিছু হটে।

সেই প্রস্তাবের ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার বিষয়ে চুক্তি করে সরকার। বর্তমানে ভারত নিজেই টিকা সংকটে। এই অনিশ্চয়তা থেকে রাশিয়ার টিকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। জানা গিয়েছে, রাশিয়ার পাশাপাশি চিনের টিকা বিকল্প হিসেবে সরকারের ভাবনায় রয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.