ঢাকা ও চট্টগ্রাম; আবহাওয়া বিভাগ জারি করেছে মহাবিপদ-১০ সতর্কতা। এর মানে প্রবল শক্তি নিয়ে বুলবুল ঘূর্ণিঝড় ঢুকতে শুরু করবে শনিবারের সন্ধের পরে। ঘণ্টায় দেড়শ কিলোমিটার বেগে বুলবুল সুন্দরবন দিয়ে উপকূল পেরিয়ে আঘাত হানতে পারে। এমনই জানাচ্ছে বাংলাদেশ আবহাওয়া বিভাগ। সীমান্তের ওপারে ভারতের দুটি রাজ্য ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গেও বুলবুলের দাপটে শুরু হয়েছে ঘন নিম্নচাপের বৃষ্টি।

বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায়। এদিকে সরকারের চূড়ান্ত সতর্কবাণী উপেক্ষা করে বঙ্গোপসাগরে মাঝ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ কম করেও ২০ জন মৎসজীবী। পরিস্থিতি আরও ঘোরতর হয়েছে, বহু মানুষ সরকারি আশ্রয় শিবিরে যেতে না চাওয়ায়। মাথার উপর বুলবুলের ধাক্কা নিয়েও তাঁরা উদ্ধারকারী কর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন। তবে দক্ষিণ বাংলাদেশের বঙ্গেপসাগর সংলগ্ন খুলনার বিস্তুির্ণ অংশ থেকে লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরানো গেছে।

কেমন পরিস্থিতি খুলনা বিভাগের উপকূল এলাকা, তা তুলে ধরেছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম। রিপোর্টে বলা হয়েছে- ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে খুলনায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি হন। এর পরেও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছেন না লোকজন। বারবার মাইকিং করা হলেও শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত অনেকেই বাড়ি ছাড়েননি। তাদের বের করে আনতে গেলেই বিরক্তি সহ প্রশ্নের মুখে উদ্ধারকারীদের শুনতে হচ্ছে- আপনি যাচ্ছেন না কেন? বিপদের মুখে আশ্রয় শিবিরে যাওয়া নিয়ে কেন এমন ক্ষোভ তার জবাব নেই।

খুলনার সাতটি উপজেলায় ৩৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লক্ষ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সাত উপজেলার বিপদাপন্ন মানুষের সংখ্যা ৫ লক্ষের বেশি। অন্য দিকে আকাশ ও জলপথে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন চট্টগ্রাম।অভ্যন্তরীণ ও বিদেশের যে কোনও বিমানের উড়ান সাময়িক বাতিল করা হল। একই অবস্থা ঢাকা-খুলনা বিমান চলাচলেও। বুলবুলের দাপটে দুর্ঘটনা এড়াতে বাংলাদেশ নৌ পরিবহণ মন্ত্রক আগেই দেশজুড়ে জলপথ পরিবহণ বাতিল করেছে ।