সাউদাম্পটন: আফগানিস্তানের কাছে নিছকই নিয়মরক্ষার হলেও বাংলাদেশের কাছে এই ম্যাচে জয় মানে বিশ্বকাপে নক-আউটের দৌড়ে প্রবলভাবে টিকে থাকা। সাউদাম্পটনের হ্যাম্পশায়ার বোলে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যদিও রানের পাহাড়ে চড়তে পারল না বাংলাদেশ।

এখানেই আগের ম্যাচে ভারতীয় দলকে মাত্র ২২৪ রানে বেঁধে রাখার পর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশকে এদিন ২৬২ রানে আটকে রাখেন আফগান বোলাররা। ভারতের পর বিষাক্ত স্পিনে বাংলাদেশকেও নাজেহাল করলেন আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমান। ১০ ওভারে মাত্র ৩৯ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন মুজিব৷

সাউদাম্পটনের হ্যাম্পশায়ার বোলে সোমবার টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব৷ এখানেই শনিবার বিরাট কোহলিদের রাতের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিলেন আফগান ক্রিকেটাররা৷ সোমবারও আফগান বোলারদের বিরুদ্ধে সাউদাম্পটনের বাইশ গজে সোনা ফলাতে পারলেন না বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। ব্যতিক্রম চলতি বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে রান করে আসা অভিজ্ঞ শাকিব আল হাসান ও উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।

শাকিবের ৬৯ বলে ৫১ এবং মুশফিকুরের ৮৭ বলে ৮৩ রানের মূল্যবান ইনিংসের সৌজন্যে স্কোরবোর্ডে ২৫০-র গন্ডি পেরোয় বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে এই উইকেটে এই দুই ব্যাটসম্যানের ৬১ রানের পার্টনারশিপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের জন্য। এছাড়া পঞ্চম উইকেটে মুশফিকুর-মাহমুদুল্লাহর জুটিতে যোগ হয় ৫৬ রান। শেষদিকে ২৪ বলে মোসাদ্দেকের ৩৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ২৬২ রান তোলে বাংলাদেশ। ভারতের পর এদিনও বাংলাদেশের তিনটি উইকেট তুলে নেন অাফগান অফ-স্পিনার মুজিব। আফগানিস্তানের সবচেয়ে সফল বোলার তিনিই। লেগ-স্পিনার রশিদ খান অবশ্য এদিন কোনও শিকার করতে পারেননি৷ ১০ ওভারে ৫২ রান খরচ করেন তিনি৷ ৫৬ রান দিয়ে দু’টি উইকেট নিয়েছেন আফগান ক্যাপ্টেন গুলবাদিন৷

ব্যাট হাতে কোহলিদের গত ম্যাচের পারফরম্যান্স ধরে রেখে এখন কতটা লড়াই ছুঁড়ে দিতে পারে আফগানরা সেটাই দেখার। জসপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ শামিদের বিরুদ্ধে ২২৪ রান তাড়া করে শেষ মুহূর্তে ভেঙে পড়ে আফগান ইনিংস৷ শেষ ওভারে শামির দুরন্ত হ্যাটট্রিকে ২১৩ রানে শেষ হয়ে যায় আফগানিস্তান৷ এদিন অবশ্য হ্যাম্পশায়ার বোলের স্লো-পিচে আফগানের টার্গেট আরও একটু বেশি৷

বেঙ্গল টাইগার্সদের গর্জন থামাতে পারলে এই বিশ্বকাপের প্রথম জয়ের মুখ দেখবে গুলবাদিন-রশিদরা৷ ৬টি ম্যাচ হেরে আগেই সেমিফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে আফগানিস্তান৷ তাদের শেষ দু’টি ম্যাচ যথাক্রমে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে৷