ঢাকা: স্থগিত করতে হবে নতুন সড়ক পরিবহণ আইন৷ এই দাবিতে বাংলাদেশ জুড়ে অনির্দিষ্টকালীন পণ্যবাহী যান চলাচল ধর্মঘট শুরু হচ্ছে বুধবার থেকে৷ এর জেরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ধাক্কা লাগতে চলেছে৷ বিশেষ করে যশোরের বেনাপোল ও পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল, হিলি সীমান্ত বাণিজ্যে৷ এর পাশাপাশি নতুন আইনের বিরোধিতায় শুরু হয়েছে যাত্রী পরিবহণ যানবাহনের শ্রমিকদের কর্মবিরতি৷

ঢাকাতে যাত্রীবাহী যান চলাচল কমে আসছে৷ একাধিক জেলায় ছড়াচ্ছে এই পরিস্থিতি৷ গত ১ নভেম্বর থেকে লাগু হওয়া এই নতুন পরিবহণ নিয়মে বলা হয়, দুর্ঘটনা জনিত কারণে মৃত্যু বা জখম হলে চালকের সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা বা সর্বাধিক ৫ বছরের কারাদণ্ড হবে৷ এর প্রতিবাদ করেছ বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ধর্মঘটের ডাক দেয়৷ বিতর্কের শুরু ২০১৮ সালে ঢাকায়৷ পথ দুর্ঘটনায় দুই পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে প্রবল গণবিক্ষোভে অচল হয়েছিল বাংলাদেশ৷ এই তীব্র আন্দোলন বিশ্ব জুড়ে প্রবল প্রতিক্রিয়া ফেলে দেয়৷

আন্দোলনের মাঝে সরকার বিরোধী মন্তব্য করায় শুরু হয় ধরপাকড়৷ তার জেরে আরও বিতর্ক দানা বাধে৷ অন্যদিকে আন্দোলনের বিরোধিতায় বিভিন্ন বাস মালিক সংগঠনও ধর্মঘট ডাকে৷ ‘রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ এই স্লোগানে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধাক্কায় সরকার পরিবহণ আইনের সংশোধন করে৷ তার বিরোধিতায় সরব পণ্য পরিবহণ ব্যবসায় জড়িত মালিকরা৷

বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির হাজী মহম্মদ তোফাজ্জেল হোসেন জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইন স্থগিত সহ ৯ দফা দাবিতে এই কর্মসূচি। দাবি মানা না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে। সকাল থেকেই বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল কম। খুলনা সহ বিভিন্ন এলাকায় বাস বা অন্য কোনও ভারি যান চলাচল করেনি৷ ঢাকাতেও পরিবহণ শ্রমিকরা বিক্ষোভ দেখান৷ তার সঙ্গে শুরু হয়েছে যাত্রীদের ভোগান্তি৷ নতুন করে অচল হওয়ার পথে বাংলাদেশ৷