ঢাকা: অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তাফা কামাল অসুস্থ, তাই তাঁর অনুপস্থিতিতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বাজেট পেশ করলেন বৃহস্পতিবার৷ এদিন বেলা ৩টের একটু পরেই ২০১৯-২০ আর্থিক বছরের বাজেট পেশ করতে শুরু করেন অর্থমন্ত্রী৷ কিন্তু বক্তৃতা দেওয়ার সময় বারবারই থেমে যাচ্ছিলেন তিনি৷ পরে ওষুধ খাবেন বলে স্পিকারের থেকে সময়ও চেয়ে নেন অর্থমন্ত্রী৷ পরে তিনি জানান, বাজেট পেশ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷

বিকেল ৪টে নাগাদ শেখ হাসিনা বাজে পেশ করেন৷ জানা যাচ্ছে দেশের ইতিহাসে এটাই সবথেকে বড় বাজেট৷ পরিমাণ ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা৷ প্রসঙ্গত, অর্থমন্ত্রী মুস্তাফা কামার আশা করছেন, নতুন অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ তিনি রাজস্ব খাত থেকে পাবেন। তার প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ১৯ শতাংশের বেশি।

পড়ুন: পাকিস্তানিদের জন্যে ভিসা বন্ধ করল ঢাকা, জবাব দিল বাংলাদেশ সরকার

এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ অর্থ ধরা হয়েছে যোগাযোগ ও পরিবহণ খাতে। ৬৪ হাজার ৮ শত ২০ কোটি টাকা যোগাযোগ ও সড়ক পরিবহন খাতে ধার্য করা হয়েছে। বাজেটে দ্বিতীয় ব্যয় ধরা হয়েছে অভ্যন্তরীন সুদ পরিশোধে, ৫৭ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আদায় করা যাবে বলে আশা করছেন কামাল। ফলে এনবিআরের কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ১৬.২৮ শতাংশ। গতবারের মত এবারও সবচেয়ে বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে, এক লাখ ২৩ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। এই অংক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৭.২১ শতাংশের মত।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ১৭তম বাজেট ও আওয়ামী লীগের ২১তম বাজেট পেশ হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১১তম বাজেট এটি। এর আগে, স্বাধীনতার পর কোনও সরকার টানা ১১টি বাজেট উপস্থাপন করতে পারেনি বলে জানা যাচ্ছে।