ঢাকা: ধর্মান্ধবাদীদের কোপে স্বয়ং মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতির ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধের জন্য ইসলামপন্থী কয়েকটি দল তৎপরতা শুরু করেছে। এর জেরে সরকার ও আওয়ামী লীগ বিব্রত। বিবিসি জানাচ্ছে, ইসলামপন্থী সংগঠনগুলি যে দাবি তুলেছে, তা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষ চলছে।  করোনা সংক্রমণের মাঝে যাবতীয় অনুষ্ঠান বাতিল করেছে বাংলাদেশ সরকার। তবে  ঢাকার দক্ষিণে ধোলাইপাড় মোড়ে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর বিরুদ্ধে ইসলামপন্থী কয়েকটি দল সেখানে এলাকায় সমাবেশ করেছে।
তিন বছর আগে ২০১৭ সালে ঢাকায় সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে গ্রিক দেবীর আদলে একটি ভাস্কর্য হেফাজতে ইসলাম সহ ইসলামপন্থী কয়েকটি সংগঠনের বিরোধিতার মুখে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনা তুলে ধরে এবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বাধা দেওয়া শুরু হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। বিবিসি রিপোর্টে উঠে এসেছে এই বিতর্কের বিভিন্ন দিক।  বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন দল বা সংগঠনের সাথে আওয়ামী লীগের সমঝোতার রাজনীতির সুযোগ নিয়ে তারা এখন শেখ মুজিবের ভাস্কর্যের ওপরই আঘাত করছে। যেটা আওয়ামী লীগের জন্যই বিব্রতকর বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অন্যদিকে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলির হুমকি, শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যকে ‘মূর্তি’ আখ্যা দিয়ে এর নির্মাণ বন্ধ করতেই হবে।  কারণ, ইসলামে মূর্তির কোনও স্থান নেই। এর বিরোধিতায় সরব কিছু সংগঠন। কিন্তু সরকার বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।
দলটির সাথে ঘনিষ্ট বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, শেখ মুজিবের ভাস্কর্য নিয়ে আঘাত আসার পরও আওয়ামী লীগের সতর্ক অবস্থান অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, হেফাজতে ইসলাম ও আরও কিছু ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সুসম্পর্কের কারণেই ইসলামপন্থীরা ভাস্কর্য নিয়ে বারবার সরব হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরানো হয়েছিল তাদেরই চাপে। সেই সুযোগ নিয়ে এবার তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতায় সরব। এর দায় দায় আওয়ামী লীগের ওপরই বর্তায় বলেও মনে করা হচ্ছে।
জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।