ঢাকা: ঘরোয়া দ্বন্দ্বে আড়াআড়ি বিভক্ত বাংলাদেশ সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পরেই এই দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে। একদিকে রয়েছেন এরশাদ পত্নী রওশন ও অন্যদিকে দেওর জিএম কাদের।

এই অবস্থায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সভায় দু পক্ষ অর্থাৎ বৌদি রওশন ও দেওর কাদের গোষ্ঠীর কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। ২১ ডিসেম্বর হবে এই কেন্দ্রীয় সভা। প্রয়াত একনায়ক শাসক তথা জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মহম্মদ এরশাদের পর দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রবল হতে শুরু করেছে। রওশন ও জিএম কাদের- দু জনেই দলের শীর্ষ পদটি দখল করতে চান। এতে জাতীয় পার্টিতে বড়সড় ভাঙন ধরতে চলেছে বলেই আশঙ্কা। যদিও দ্বন্দ্ব মিটিয়ে রওশন ও কাদের আবার এক হয়ে কাজ করতে রাজি বলেই জানানো হয়েছে।

দলীয় সূত্রে খবর, আসন্ন ২১ ডিসেম্বরেই হবে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল বৈঠক। সেই বৈঠকেই দলের পরবর্তী কর্মসূচি তৈরি হবে। এই কেন্দ্রীয় বৈঠকেই প্রয়াত এরশাদের পত্নী রওশন ও ভাই জিএম কাদেরের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিস্তর জল্পনা।

এরশাদের প্রয়াণের কিছু আগে দলের চেয়ারম্যান হন জিএম কাদের। এই নিয়ে তাংর বৌদি তথা সংসদের বিরোধী নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে মনোমালিন্য বাড়ছিল। বেগতিক দেখে দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা দুই যুযুধান শিবিরের মধ্যে আপোষ করান।

সর্বশেষ বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী হয়ে হ্যাট্রিক করেছেন শেখ হাসিনা। আর এরশাদের নেতৃত্বে হাসিনার সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সামিল হয় জাতীয় পার্টি। তারাই হয় বিরোধী দল। নির্বাচনে অন্যতম প্রধান শক্তি তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দলের ভরাডুবি হয়। ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ ওঠে এবারেও।

বাংলাদেশর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সদ্য জাতীয় নির্বাচনের আগে ভোটে বিএনপির নির্বাচন বয়কট দলটিকে জনবিচ্ছিন্ন করেছে। সেবারেও ব্যাপক রিগিং অভিযোগ করে সরে এসেছিল বিএনপি। কিন্তু জাতীয় পার্টি পরে সেই সুযোগটি নিয়ে নিজেদের বিরোধী আসনে বসায়।
পরে প্রাক্তন এক নায়ক সেনা শাসক এরশাদ হন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। আবার তাঁর দলই হয় প্রধান বিরোধী। এমনই অবস্থান নিয়ে অস্তিত্ব ধরে রেখেছে জাতীয় পার্টি।

জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান তথা এরশাদ ভ্রাতা জিএম কাদের জানিয়েছেন, ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবে দল। ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, এরশাদের শূন্যতা পূরণে সময় লাগবে। তবে জাতীয় পার্টি টুকরো টুকরো হবে না প্রমাণিত, জাতীয় পার্টি দুর্বল হবে না।