ঢাকা: সম্প্রতি নয়াদিল্লি সফরে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেনী নদীর জল ভারতে পাঠানোর চুক্তি করেন। এর পর থেকেই বাংলাদেশের বিরোধী রাজনীতি প্রকাশ্যে ফের ভারত বিরোধিতা জোরালো হতে শুরু করেছে। এমনই রিপোর্ট দিয়েছে বিবিসি।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিরোধীদল বিএনপি সবচেয়ে বেশি সরব। দলটির দাবি,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো বাদ দিয়েছেন। আর একতরফা কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত জাতীয় নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতা দখল করে। খাতায় কলমে জাতীয় পার্টি সংসদের বিরোধী দল হলেও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি সাংগঠনিক দিক থেকে বৃহত্তম বিরোধী দল। সেই বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে বারের বারে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরের তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে। যা বেশ কিছু বছর দেখা যায়নি। ভারতের কাছে ঝুঁকছে বাংলাদেশ এমনই দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা।

এই ইস্যুতে ঢাকায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জমায়েত করেন। তাতে প্রকাশ্যেই ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করা হয়। বিবিসি জানাচ্ছে, ২০১২ সালে বিএনপি সুপ্রিমো খালেদা জিয়া বিরোধী নেতা থাকাকালীন ভারত সফর করেন। সেই সময় থেকে বিএনপি সরাসরি ভারত বিরোধিতামূলক মন্তব্য করা নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখে। বেগম জিয়া আর্থিক দুর্নীতির দায়ে জেলে বন্দি। দলের বাকি শীর্ষে নেতারা নিজেদের শক্তি বজায় রাখতে তীব্র ভারত বিরোধী মন্তব্য করছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লী সফরে ভারতের স্বার্থে একতরফা সব চুক্তি হয়েছে, সেকারণেই প্রতিবাদ।

তিনি বলেন, এক পাক্ষিক বন্ধুত্ব হয় না। বন্ধুত্ব হচ্ছে টু ওয়ে ট্রাফিক। দেয়া নেয়ার ক্ষেত্রে একটা সমতা থাকতে হবে।আমরা দেখছি এই ক্ষেত্রে একটা বড় ধরণের ঘাটতি থাকছে। তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে তিস্তা জল বণ্টন চুক্তির ব্যাপারে কিছু করা হলো না। কিন্তু হঠাৎ করে ফেনী নদী থেকে জল দিয়ে দেয়া হলো।এভাবেই রাষ্ট্র বিরোধী কাজ করা হচ্ছে। বিবিসি রিপোর্টে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর এবার ভারত সফরে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হয়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে,বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যও এটি বিএনপির একটি কৌশল হতে পারে।