কলকাতা: বাংলাদেশ ম্যাচ না জিতলে মূল্যহীন হয়ে যাবে কাতার ম্যাচের মহামূল্যবান এক পয়েন্ট। ম্যাচের আগে কোচ ইগর স্টিম্যাচ পই-পই করে এই মন্ত্রেই নিজের দলকে চার্জড-আপ করার চেষ্টা করেছিলেন। পাশাপাশি সুনীলদের দ্বাদশ ব্যক্তি হয়ে কলকাতার সমর্থকদের যুবভারতী ভরানোরও ডাক দিয়েছিলেন ভারতের ক্রোয়েশিয়ান কোচ।

টিফো, ভাইকিং-ক্ল্যাপস, কানায় পূর্ণ যুবভারতী। ব্লু-টাইগারদের জন্য সব কথাই রাখল ফুটবলের মক্কা। কিন্তু ভারতীয় দল ব্যর্থ সমর্থকদের প্রত্যাশাপূরণে। যুবভারতীতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ১-১ গোলে আটকে গেল ভারত। বলা ভালো নির্ধারিত সময়ের দু’মিনিট আগে আদিল খানের গোলে হার এড়ালেন সুনীল ছেত্রীরা।

কাতার ম্যাচের প্রথম একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনে এদিন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দল সাজান স্টিম্যাচ। কাতার ম্যাচে দুরন্ত পারফর্ম করা আহত সেন্টার-ব্যাক সন্দেশ ঝিঙ্গানের পরিবর্তে প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে এদিন একাদশে শুরু করেন আনাস এডাথোডিকা।

প্রথম মিনিটে ম্যাচের প্রথম মুভমেন্টেই ভারতীয় রক্ষণের খানিকটা পরীক্ষা নেয় জেমি ডে প্রশিক্ষণাধীন বাংলাদেশ। শুরুটা দেখলে দিনের বাকি সময়টা সম্পর্কে যেমন প্রচ্ছন্ন একটা ধারণা পাওয়া যায়, তেমনই ম্যাচের শুরুতে এদিন ভারতীয় রক্ষণে বাংলাদেশের হানা দেওয়ার ঘটনা দেখে মনে হচ্ছিল কলকাতায় পা দিয়েই জামাল ভুঁইয়ার হুঙ্কার নেহাত ফেলে দেওয়ার নয়।

আরও পড়ুন – রোনাল্ডোদের হারিয়ে ইউরোর টিকিট ইউক্রেনের

লং বলে দানা বাঁধছিল না ভারতের আক্রমণ। খেলা গড়ানোর সঙ্গে ডানপ্রান্তিক কয়েকটা ক্রস এল বটে, কিন্তু তাতে বাংলাদেশ রক্ষণে বিশেষ কিছু বিপদের সঞ্চার হয়নি। বরং পরিচিত কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ফুটবলে ম্যাচের প্রথম গোল তুলে নেয় প্রতিবেশী দেশ। ৪২ মিনিটে অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়ার ফ্রি-কিক থেকে সুযোগসন্ধানী হেডে দলকে এগিয়ে দেন সাদ ঊদ্দিন। যুবভারতীতে তখন পিনড্রপ সাইলেন্স। যদিও গোলটির পিছনে ভারতের গোলরক্ষক গুরপ্রীতের আউটিংয়ে সিংহভাগ দায়ী করা যায়।

পিছিয়ে থাকা অবস্হায় দ্বিতীয়ার্ধে প্রাণপন ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ব্লু-টাইগাররা। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে পয়েন্ট আদায়ে মরিয়া বাংলাদেশ ডিফেন্সে লোক বাড়িয়ে নেয়। উলটোদিকে গোল পেতে মরিয়া স্টিম্যাচ ব্র্যান্ডন, রেনিয়ারকে নামিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। অধিনায়ক ছেত্রীর ব্যক্তিগত কয়েকটি প্রচেষ্টা, সামাদ-ব্র্যান্ডনদের দূরপাল্লার কয়েকটি শট বিপক্ষ রক্ষণে আছড়ে পড়লেও গোল আসছিল না কিছুতেই।

অবশেষে ৮৮ মিনিটে সুপার-সাব ব্র্যান্ডনের কর্নার থেকে হেডে আদিল খানের নিখুঁত হেড জালে জড়াতে উত্তাল হয়ে উঠল যুবভারতীর গ্যালারি। ব্যস গোটা ম্যাচে ওইটুকুই প্রাপ্তি ভারতীয় দলের। পাঁচ মিনিট অতিরিক্ত সময় পেলেও তাতে স্কোরলাইন বদলাতে ব্যর্থ ভারতীয় দল। যোগ্যতা অর্জনের দৌড়ে টিকে থাকতে ‘মাস্ট উইন’ গেম ড্র করে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন সম্ভবত যুবভারতীতেই রেখে গেলেন সুনীলরা।