ঢাকাঃ এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পরে যাওয়া ১৯ লক্ষ মানুষ এখনও দেশহীন বা বিদেশী নয়। রবিবার বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে। কিন্তু তা সত্যেও নাম বাদ যাওয়া ১৯ লক্ষ মানুষকে নিয়ে চড়ছে রাজনৈতিক তরজা। এই অবস্থায় এনআরসি নিয়ে মুখ খুলল বাংলাদেশ সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, একাত্তরের পর বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে যায়নি। অসমের নাগরিক তালিকাকে (এনআরসি) ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন আসাদুজ্জামান খান কামাল।

নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৪-১৫ লাখ বাসিন্দাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যে বাংলাদেশকে আবেদন জানানো হবে। এমনটাই জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আসামের এনআরসির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই। ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘আমি আবারও বলছি- এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি জানি না এ বিষয়ে কে কী বলেছে। ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানালে, আমরা জবাব দেব। সব মিলে আমি বলতে পারি, ১৯৭১ সালের পর কেউ বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায়নি’।

শনিবার সকালে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) প্রকাশ করা হয়। তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ। তালিকা প্রকাশের পরে অর্থমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, ‘বাংলাদেশ ভারতের বন্ধু এবং তারা আমাদের সহায়তা করে আসছে। নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া লক্ষাধিক এই বাসিন্দাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যে আবেদন জানানো হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশ তৈরি হওয়ার পর থেকে ভারত আমাদের সঙ্গে আছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক চমৎকার। তারা আমাদের বন্ধু, কিন্তু এনআরসি নিয়ে উদ্বেগের ক্ষেত্রে আমি বলতে পারি- ১৯৭১ সালের পর কেউ বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায়নি। আমি মনে করি না ভারত সরকার কাউকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেবে।