নয়াদিল্লি: রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিকতা দেখিয়েছে ভারত। সেই কারণে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল বাংলাদেশ।

গত প্রায় আড়াই বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের বিস্তীরন অংশে চলছে রোহিঙ্গা সমস্যা। যার বড় প্রভাব পরেছে বাংলাদেশে। ভারতেও বসবাস করতে শুরু করেছে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বহু রোহিঙ্গা।

এই রোহিঙ্গাদের প্রতি ভারতের মানবিক সহযোগিতা করার কারণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ডাঃ একে আবদুল মোমেন। চলতি সপ্তাহের বুধবারে তিনি ভারতে এসেছেন। শুক্রবারে তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রি সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ওই বৈঠকেই নানাবিধ বিষয়ের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। সেই সময়েই ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চার দফায় রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডাঃ একে আবদুল মোমেন। সংকট শুরুর পর থেকে বাস্ত্যুচুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে চার দফায় প্রয়োজনীয় মানবিক ত্রাণ সহায়তা দেয়ায় ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আবদুল মোমেন।

অন্যদিকে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন করার বার্তা দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, দ্রুত এবং টেকসই প্রত্যাবাসনে ভারতের সমর্থন আছে বলে জানিয়েছেন সুষমা। পাশাপাশি মায়ানমারের বাস্ত্যুচুত বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঠাঁই দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

এই বৈঠকেই তিস্তার জল নিয়ে খুব শিঘ্রই যাবতীয় সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এদিন দিল্লির জহরলাল নেহরু ভবনে ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি-বিদ্যুৎ, নদীর পানিবণ্টন, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সফ নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর যৌথ উদযাপনের বিষয়েও কথা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ডাঃ একে আবদুল মোমেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডাঃ মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন আগামিকাল তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাবেন।