ঢাকা: করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক বিশ্বজুড়ে। একের পর এক দেশে মহামারীর রুপ নিয়েছে মারণ এই ভাইরাস। চিন থেকে শুরু হলেও ভয়ঙ্কর এই ভাইরাস এখন বিশ্বের সমস্ত দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারত-বাংলাদেশেও ক্রমশ বাড়ছে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। করোনা নিয়ে যখন আতঙ্কে মানুষ ঠিক সেই সময় বাংলাদেশে অজানা জ্বরের প্রাদুর্ভাব। যদিও ডাক্তাররা হাম বলেও জানাচ্ছেন। কিন্তু এই বিষয়ে স্থানীয় মানুষের সেই অর্থে কোনও তথ্য না জানার ফলে এই রোগ ধীরে ধীরে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম যমুনা টিভি জানাচ্ছে, সাজেকের পর এবার খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দেখা দিয়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। দূর্গম এলাকার লোকজন জানে না রোগ এবং রোগের উপসর্গ সম্পর্কে। তাই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দূর্গম পাহাড়ে ছড়াচ্ছে এ রোগ। এতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। যদিও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, দূর্গম এলাকার লোকজন স্বাস্থ্য সচেতন কম বলেই ঝুঁকিতে রয়েছে তারা। যদিও এলাকায় ইতিমধ্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া শুরু হয়েছে। পাঠানো হয়েছে মেডিক্যাল টিমও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, আক্রান্ত সব শিশুর বয়স ১০ বছরের নিচে।

চলতি মাসের মাঝামাঝিতে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের শিয়ালদাহ গ্রামে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় পাঁচ শিশু। প্রথমদিকে এলাকার লোকজন জানতেন না রোগ সম্পর্কে। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় চিকিৎসা পরিষেবার পর সুস্থ্য হয়ে উঠে হামে আক্রান্ত শতাধিক শিশু। এর কিছুদিন পর নতুন করে অজ্ঞাত রোগ দেখা দেয় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দূর্গম রথিচন্দ্র কার্বারী পাড়ায়। এই রোগে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে আরও ৩০ জনের মত। ৯ বছর বয়সী মারা যাওয়া শিশুর নাম ধনিকা ত্রিপুরা।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ধনিময় ত্রিপুরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গত কয়েক দিন ধরে এলাকার শিশুরা প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। পরে তাদের শরীরে লাল লাল গুটি দেখা দিচ্ছে যা হামের লক্ষণ। কিন্তু এলাকাটি দূর্গম হওয়ায় এখানে কোনও চিকিৎসা পরিষেবা নেই। মারা যাওয়া শিশুটিও একই লক্ষণ নিয়ে শনিবার মারা যায়। অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আক্রান্ত ধনিকা ত্রিপুরার মৃত্যুর পর যোগাযোগ করা হলে ডাক্তার এসে আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে আক্রান্ত ৩০জন। রবিবার সকাল থেকে মেডিকেল টিম তাদের কার্যক্রম শুরু করে।

আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। দ্রুত এলাকায় শিশুদের হাম টিকা দেওয়া না হলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানায় তারা। দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. তনয় ত্রিপুরা জানান, খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছই। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছি। হাম আক্রান্তের লক্ষণ থাকলেও পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া তা বলা যাবে না। ঢাকায় এদের নমুনা পাঠানো হবে। পরবর্তী প্রয়োজনে এখানে জরুরী ভিত্তিতে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে হামের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

অন্যদিকে, খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন নুপুর কান্তি দাশ বলেন, পাহাড়ের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা কম এবং তারা কুসংস্কারে বিশ্বাসী। স্থানীয়দের মধ্যে টিকাভীতিও রয়েছে। এসব কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। তবে আক্রান্ত এলাকায় খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।