ঢাকা: প্রকাশ্যে এক অবসরপ্রাপ্ত মেজর কে গুলি করা ও তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ জুড়ে বিতর্ক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। মৃত সেনা কর্তার নাম সিনহা মহম্মদ রাশেদ খান।

সৈকত নগরী কক্সবাজারের শামলাপুরে পুলিশের চেক পোস্টে অবসরপ্রাপ্ত মেজরকে গুলি করা হয় শুক্রবার। পুলিশের প্রাথমিক দাবি, তল্লাশির সময় তিনি আগ্মেয়াস্ত্র বের করেন। এরপরেই গুলি চালান এক রক্ষী। গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরে মৃতের পরিচয় জানা যায়।

তদন্তে জানা গিয়েছে সেনা বাহিনি থেকে অবসর নিয়ে সিনহা মহম্মদ রাশেদ খান কক্সবাজারের একটি হোটেলে থাকতেন। তাঁর পরিচিতরা দাবি করছেন, ইউটিউবের জন্য তথ্য চিত্র বানানোর কাজকে বেছে নিয়েছিলেন সিনহা রাশেদ। কেন তাঁকে গুলি করল পুলিশ এই প্রশ্নে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে।

শুক্রবার রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে সিনহা রাশেদ খানের মৃত্যু হয়। পু‌লিশ জা‌নি‌য়ে‌ছে, প্রাক্তন ওই সেনা কর্মকর্তা তাঁর ব্যক্তিগত গা‌ড়ি‌তে ক‌রে অপর একজন স‌ঙ্গীসহ টেকনাফ থে‌কে কক্সবাজার আস‌ছি‌লেন। মে‌রিন ড্রাইভ সড়‌কের বাহারছড়া চেক‌পো‌স্টে পু‌লিশ গা‌ড়ি‌টি থা‌মি‌য়ে তল্লাশি কর‌তে চাইলে সেনা কর্মকর্তা বাধা দেন।

কক্সবাজা‌রের পু‌লিশ সুপার এবিএম মাসুদ হো‌সেন জা‌নি‌য়ে‌ছেন, ওই গা‌ড়ির আরোহীদের ডাকাত স‌ন্দেহ ক‌রে পু‌লিশকে খবর দেয় কয়েকজন। পু‌লিশ চেক‌পো‌স্টে গা‌ড়ি‌টি থামা‌নোর চেষ্টা ক‌রে। কিন্তু গা‌ড়ির আরোহী একজন পিস্তল বের ক‌রে পু‌লিশ‌কে গু‌লি করার চেষ্টা ক‌রে। আত্মরক্ষা‌র্থে পু‌লিশ গু‌লি চালায়। এতে ওই ব্য‌ক্তি মারা যান।

পুলিশ সুপার আরও জানান, এই ঘটনায় দু‌টি মামলা হ‌য়ে‌ছে। দুজনকে আটক করা হ‌য়ে‌ছে। পু‌লিশ পিস্তল‌টি বাজেয়াপ্ত করে‌ছে। গা‌ড়ি‌তে তল্লাশি ক‌রে ৫০টি ইয়াবা, কিছু গাঁজা এবং দুটি বি‌দেশি ম‌দের বোতল উদ্ধার করা হ‌য়ে‌ছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনি জানাচ্ছে, সিনহা রাশেদ খান ২০১৮ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। তিনি মেজর ছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও অর্থ মন্ত্রকের প্রাক্তন উপসচিব।

মৃতের পরিচিতরা বলছেন, ঢাকার স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের তিনজন ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ট্রাভেল ভিডিও তৈরি করতে কক্সবাজার গিয়েছিলেন সিনহা রাশেদ খান। প্রায় এক মাস তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে শুটিং করেন।তাঁর বন্ধুরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা