ঢাকা: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। ঈদের সময়ের ভিড়, ও দেশজোড়া সাধারণ ছুটি তুলে নেওয়ার জোড়া ধাক্কায় ৫০ হাজার পেরিয়ে গেল করোনা রোগীর সংখ্যা। মাত্র একদিন হয়েছে ছুটি তুলে নেওয়ার পর, আর গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ করোনা রোগী বাংলাদেশে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আত্মঘাতী দৌড় শুরু করেছে বাংলাদেশ। অসচেতন জনগণ করোনার থাবার দিকে ছুটে চলেছেন।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসেবে কোভিড-১৯ রোগী ৫২ হাজার ৪৪৫ জন। মৃত ৭০৯ জন। এই সংখ্যা সাধারণ ছুটি তুলে নেওয়ার পরে ভয়ের কারণ। জন প্রশাসন মন্ত্রক টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি বাতিল করার পরেই এই বিরাট সংখ্যক সংক্রমণ হতে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসেব, করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দু হাজারের বেশি সংক্রামক রোগী চিহ্নিত হয়েছে। তবে মোট সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ১২০ জন।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা জানান, সুস্থতার হার ২১ শতাংশ ও মৃত্যুর হার ১.৩৫ শতাংশ। কিন্ত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনার ভয়াবহতা এখনও বাংলাদেশে। একাধিক চিকিৎসক বিভিন্ন সংগঠন সাধারণ ছুটি তুলে নেওয়ার নির্দেশে ক্ষুব্ধ। এর আগে ঈদের সময় কিছুমাত্রায় বিধি নিষেধ শিথিল করা হয়। সেই সময় করেনায় বাংলাদেশের সর্বাধিক আক্রান্ত রাজধানী ঢাকা থেকে বহু মানুষ ভিড় করেই গ্রাম বা মফস্বলে ফিরেছিলেন।

আশঙ্কা, যেহেতু ঢাকা করোনার হটস্পট ঢাকা, তাই রাজধানী থেকেই দূরবর্তী স্থানগুলিতে করোনার বড়সড় সংক্রমণ ছড়াবেই। ঈদ মিটতেই ঢাকায় ফেরার তাড়া ও সাধারণ ছুটি বাতিলের পর রাস্তায় ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এতেই সংক্রমণ আরও ছড়াচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আগেই আশঙ্কা করে বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে প্রবল করোনা ঝুঁকির সামনে।

তবে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বাধিককরোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু গল ভারতে। প্রতিবেশী দেশেও কিছু এলাকা বাদ দিয়ে সেখানেও লকডাউন চলছে পঞ্চম পর্যায়ে। এই পর্বের নাম আনলক-১। ভারতে দু লক্ষের দোরগোড়ায় করোনা রোগীর সংখ্যা। মৃত সাড়ে ৫ হাজারের বেশি।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প