ঢাকা: উনিশ বছর আগে ২০০১ সালে ঢাকার পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হল। আদালত ১০ হুজি জঙ্গিকে ফাঁসির সাজা দিল।

২০০১ সালে সিপিবি সমাবেশে হুজি-বি জঙ্গি সংগঠন বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ৫ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন বহু।

রক্তাক্ত ২০ জানুয়ারি:

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে সিপিবি সমাবেশ চলছিল। সেই সময় বোমা-গ্রেনেড হামলা চালায় জঙ্গিরা। প্রবল বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন মারা পান। পরে জানা যার পাঁচজন নিহত হয়েছেন। জখম হন অনেকেই। হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সহ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন ছড়ায়। সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান মামলা দায়ের করেন।

হুজি জঙ্গি হামলায় সিপিবি সমাবেশে মৃত্যু হয় হিমাংশু মন্ডল, আব্দুল মজিদ, আবুল হাসেম, মুক্তার হোসেন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাসের।

২০০১ সালে এই জঙ্গি সংগঠন দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে জড়িয়ে যায়। তার অন্যতম হল ২০ জানুয়ারি কমিউনিস্ট পার্টি অফ বাংলাদেশের (সিপিবি)সমাবেশে হামলা। ১৯ বছরের মাথায় সেই মামলার রায় দেওয়া হল। তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, এই দিনেই নাশকতা ঘটিয়েছিল হুজি-বি।

মামলায় মৃত্যুদণ্ড রয়েছে, মুফতি আব্দুল হান্নান, মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহম্মদ. মশিউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিরাজ ও নুর ইসলাম।

তখন বাংলাদেশের ক্ষমতায় বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনা। চলছে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত। এই পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা কে খুনের ষড়যন্ত্র যেমন চলছিল, তেমনই হয়েছিল কমিউনিস্ট পার্টির উপর হামলা। ব্রিটিশ হাই কমিশনারও আক্রান্ত হন। শুরু হয়েছিল একটার পর একটা বিস্ফোরণ পরিকল্পনা। এর নেপথ্যে ‘হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামী বাংলাদেশ ‘ জঙ্গি সংগঠন। হুজি-বি নামেই তার পরিচিতি।

আগেই জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। সাত জন পলাতক। চার্জশিটে বলা হয়েছে আসামিরা সবাই হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি) নেতা ও কর্মী।

সিপিবি সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের পরই হুজি জঙ্গিদের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হতে থাকে। জঙ্গি সংগঠনটির হিট লিস্টে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী তথা আওয়ামী লীগের সুপ্রিমো শেখ হাসিনার নাম উঠে আসে।

১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর হুজি-বি একাধিক বোমা হামলায় বারবার বাংলাদেশকে রক্তাক্ত করেছে। একনজরে হুজি-বি হামলাগুলি হল-

১৮ জানুয়ারি ১৯৯৯, কবি ও মুক্তচিন্তক শামসুর রহমানকে হত্যার চেষ্টা।

৬ মার্চ ১৯৯৯, যশোরের বাম মনস্ক উদিচি সংগঠনের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা।

৮ অক্টোবর ১৯৯৯ খুলনায় আহমাদিয়া মসজিদে বোমা হামলা চালায় ।

টার্গেট শেখ হাসিনা: ২০ জুলাই ২০০০, হত্যার চেষ্টা।

এরপরেই রক্তাক্ত হয় সিপিবি সমাবেশ- ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি, দলটি ঢাকায় কমিউনিস্ট পার্টি সমাবেশে বোমা হামলা করে হুজি ।

রক্তাক্ত বাংলা বর্ষবরণ: ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল, রমনা পার্কে বাঙালি নববর্ষের উদযাপনে বোমা হামলা চালায় হুজি । মৃত্যু হয় কয়েকজনের।

৩ জুন ২০০১, গোপালগঞ্জের একটি গির্জায় বোমা হামলা।

২০০১ সালের ১৬ জুন, দলটি নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা করে।

২০০১ সালের ২৩ শে সেপ্টেম্বর, বাগেরহাটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশে বোমা হামলা।

ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে খুনের চেষ্টা : ২১ মে ২০০৪, সিলেটে শাহ জালাল মাজারে ব্রিটিশ হাইকমিশনার লক্ষ্য করে বোমা হামলা। অল্পের জন্য রক্ষাপান হাইকমিশনার।

হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলা : ২০০৪সালের ২৪ শে আগস্ট, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ঢাকা আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। অনেকে মারা যান। কোনওমতে রক্ষা পান হাসিনা।