ঢাকা: বাংলাদেশে লাগাতার ধর্ষণের ফলে তীব্র প্রতিবাদের ধাক্কায় সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ সংশোধন করেছে। সংশোধিত অধ্যাদেশে মৃত্যুদণ্ডের সাজা সংযুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এই অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

ঐতিহাসিক এই আইনি পদক্ষেপের পর প্রথম কোনও ধর্ষণ ও খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা হলো।২০১২ সালে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক মহিলাকে অপহরণ করে গণধর্ষণ ও খুন করা হয়। এই মামলায় সংশোধিত আইনে পাঁচ আসামীর মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা ধার্য করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এই রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের নাম সাগর চন্দ্র, সুজন মনি ঋষি, রাজন, সঞ্জিত এবং গোপী চন্দ্র শীল। রায় ঘোষণার সময় সঞ্জিত ও গোপী চন্দ্র শীল উপস্থিত ছিল। বাকি তিন আসামি জামিন নিয়ে পলাতক।

পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ তৈরির পরে দীর্ঘ চার দশক নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যদণ্ড ছিলনা। সম্প্রতি বাড়তে থাকে গণধর্ষণের ঘটনা। একটার পর একটা ধর্ষণ ও খুনের জেরে জনজীবনে শুরু হয় বিক্ষোভ।

ক্ষোভের মুখে সরকার আইনটি শংশোধনের পথ নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারির চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের স্বাক্ষর শেষে অধ্যাদেশ জারি হয়।

এই অধ্যাদেশ জারির পরেই প্রথম রায় এসেছে। তবে দণ্ডিতরা পরবর্তী আপিলের সুযোগ পাবে। রায়ে খুশি মৃতার পরিবার।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।