ঢাকা: জাতীয় রোগতত্ব বিভাগের দাবি, করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। গত তিন দিন ধরেই এই সংখ্যা দুই অংকের ঘরে প্রবেশ না করায় বাংলাদেশ জুড়ে স্বস্তি। সেই সঙ্গে প্রবল আশঙ্কা, যে হারে কোয়ারেন্টাইন নিয়ম না মানার প্রবণতা তাতে বিপদ বাড়বে। এই স্বস্তি এবং আশঙ্কার হাওয়া একসঙ্গে বইছে দেশ জুড়ে। চলছে টানা ১০ দিনের লকডাউন। জনশূন্য রাজপথ থেকে সব জেলা-উপজেলার রাস্তা। তবে বাজারে ভিড় ও বাড়ি ফেরার ভিড় উদ্বেগ তৈরি করছে।

অভিযোগ, সরকারি নিষেধ অমান্য করেই শুক্রবার বিশেষ নামাজ পাঠ হয় বহু মসজিদে। যাঁরা ঢাকা থেকে নিজের গ্রামের বাড়ি লে এসেছেন প্রবল ভিড় পেরিয়ে তাঁদের অনেকেই করোনা সংক্রমণ ছড়াতে পারেন। প্রতিবেশী ভারতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা। রবিবার পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সীনান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গে মৃত একজন। তবে ত্রিপুরা এখনও করোনা মুক্ত। আর মিজোরাম, অসম এবং মেঘালয়ে তেমন ছড়ায়নি ভাইরাসটি।

তবে ভারতে রবিবার পর্যন্ত ১ হাজার জন আক্রান্ত। এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারতের এই পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে চলছে বাংলাদেশ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কারো দেহে নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ রোগের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এই তথ্য জানান।

সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, ৪৮ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। সেরে উঠেছেন ১৫ জন। আর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৮ জন। তবে বাংলাদেশ যে প্রবল করোনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তা আগেই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-হু। পরিস্থিতি বুঝে সরকার মহামারি আইন প্রয়োগ করেছে। কোয়ারেন্টাইন ও লকডাউন ভাঙলে জেল ও জরিমানা ধার্য করা হচ্ছে। অভিযোগ, এর পরেও চলছে আইন না মানা। সামাজিক দূরত্ব না মেনে জমায়েত। এর থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।