ঢাকা: সরকারের তরফে বারবার আবেদন কেউ এবার ছুটিতে বাড়িমুখো হবেন না। কে শোনে কার কথা। আসন্ন ঈদে ঘরমুখী ভিড় দেখে আতঙ্কিত সরকারই। এই কারণে, বাংলাদেশ করোনা হামলার ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে, সেটা স্বীকার করছেন বিশেষজ্ঞরা। চুলোয় গেল সামাজিক দূরত্ব। ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন বহু মানুষ। এতে করোনাভাইরাসের হটস্পট ঢাকা থেকে সারাদেশেই করোনা রোগী ছড়িয়ে পড়বে। আর রোধ করার উপায় নেই। এমনই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অভিযোগ, সরকারের তরফে ঘরে থাকার কথা বলা হলেও ঢাকা থেকে বের হওয়ার সড়কগুলি খুলে দেওয়া হয়েছে। এতেই ঘরে ফেরার ভিড় প্রবল। এদিকে করোনার সংক্রমণ আরও বেড়েছে। বাড়ছে মৃত্যু। ওয়ার্ল্ডোমিটার এবং বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসেব, শনিবার পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি আক্রান্ত। মৃত ৪০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই অস্থায় ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরার টান আরও বেশি মৃত্যু ডেকে আনবে। রাজধানী ঢাকা থেকে মানুষ গ্রামে যাওয়ার ভিড়ে সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়ে গেলো।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ঢাকা ও এর আশেপাশের জেলা ছাড়া বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণের হার কম ছিল। ভিড়ের করোনা সংক্রমণ গ্রামাঞ্চলেও ঝুঁকি তৈরি করল। এটা বোঝা যাবে এখন থেকে আরও ১৪-২১ দিন পর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা ঈদের ছুটিতে শহর ছেড়ে কাউকে গ্রামে না যাওয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘গ্রামে যাওয়ার কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে। যে যেখানে আছেন সেখানেই অবস্থান করুন। শহর থেকে গ্রামের দিকে যাবেন না। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য শহর থেকে গ্রামে যেতে চাচ্ছেন, আপনার কারণে সেই প্রিয়জন না ঝুঁকিতে পড়েন।’

অধ্যাপক নাসিমা বলেন, ‘অনুগ্রহ করে সহযোগিতা করুন, সরকারের সব নির্দেশনা মেনে চলুন এবং চলাচল বন্ধ করুন। নিজে সুস্থ থাকুন এবং প্রিয়জনকে সুস্থ রাখুন।’ অভিযোগ, কে শোনে কার কথা। ঢাকা থেকে নৌ পরিবহণেই দূর দূরান্তে ফিরছেন লক্ষাধিক যাত্রী। প্রতিটি ফেরী চলাচলের সময় ভিড় উপচে পড়ছে। ততই বাড়ছে করোনার প্রবল সংক্রমণ সম্ভাবনা।