ঢাকাঃ  ক্রমশ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। একের পর এক দেশে ছড়াচ্ছে মারণ এই ভারত। সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। আর এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে গবেষকরা বলছেন, অবিলম্বে করোনার চেন ভাঙতে হবে। আর তা করতে হবে সোশ্যাল ডিসটেন্স এবং কড়া লকডাউন মেনে। তবে করোনার কারণে মানুষের জীবনযাত্রার বদল এসেছে। আগামিদিনে আরও আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে ভারতীয় সিনেমাতে সমস্ত রকম ঘনিষ্ঠ দৃশ্যকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার সেই পথেই হাঁটল বাংলাদেশের সিনেমা। করোনায় সরকারি বিধিনিষেধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শুটিংয়ে ফিরতে যাচ্ছে টেলিভিশনের ১৫টি সংগঠন। সংগঠনগুলোর সমন্বয়ক প্ল্যাটফর্ম এফটিপিও’র সভাপতি নাট্যজন মামুনুর রশীদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

এতে বলা হয়, ১ জুন থেকে শুটিং শুরু করা যাবে। তবে পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পী ও নাট্যকারদের কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম শর্ত, ঘনিষ্ঠ দৃশ্য কোনও ভাবেই গল্পে রাখা যাবে না! তবে এই ‘ঘনিষ্ঠ দৃশ্য’ কতোটা বা কেমন ‘ঘনিষ্ঠ’, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্টদের কাছে। বেঁধে দেওয়া শর্তগুলো এমন- জনসমাগম হয় এমন স্থানে শুটিং করা যাবে না। একটি দৃশ্যে তিনজনের বেশি সংখ্যক শিল্পীর সমাগম ঘটানো যাবে না। অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে মাস্টার শট নিতে হবে এবং ঘনিষ্ঠ দৃশ্য কোনোভাবেই গল্পে রাখা যাবে না।

এছাড়াও পাণ্ডুলিপিহীন কোনও নাটক নির্মাণ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শর্তের বিষয়গুলো ডিরেক্টরস গিল্ড ও অভিনয়শিল্পী সংঘ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংগঠন দুটির সাধারণ সম্পাদক এসএ হক অলিক ও আহসান হাবিব নাসিম জানান, সংক্রমণ এড়াতে জীবাণুনাশক ব্যবহার ও গাড়ি ব্যবহারের সাবধান হতে হবে। এমনকি শুটিংয়ে যাওয়ার আগে শিল্পীকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এছাড়া অভিনয় শিল্পীদের নিজ দায়িত্বে মেকআপ করে আসতে হবে। আর সবাইকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।

তারা বলেন, ‘সরকারের দেওয়া নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শুটিংয়ের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। উপরোক্ত নির্দেশাবলীর যেকোনও বিষয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের ঘোষণার সাথে সমন্বয় করে আন্তঃসংগঠনের নেতারা সংযোজন ও বিয়োজন করতে পারবে।’

বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ষাটোর্ধ্ব শিল্পী কলাকুশলীদের অংশগ্রহণ করালে তাদের বিষয়ে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। শিশু/কিশোর শিল্পীদের আপাতত কোনও নাটকে অংশগ্রহণ করানো যাবে না। শুটিং আরম্ভ হওয়ার পূর্বে যদি সম্ভব হয়, কলাকুশলীবৃন্দ পিপিই পরিধান করে কাজে অংশগ্রহণ করবেন। বিশ্বের বহুদেশের নীতিতে এটা রাখা।

এবং শুটিং শুরুর আগে শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করতে হবে সবার। এর আগে ২২ মার্চ থেকে দেশের করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় টিভি নাটকের শুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় টিভি নাটকের আন্তঃসংগঠনগুলো। এরমধ্যে একবার শুটিংয়ে ফেরার ঘোষণা দিয়েও নানা সমালোচনার চাপে সেটি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাতিল করা হয়। তবে এবারের সিদ্ধান্ত আপাতত বাতিল হওয়ার কারণ নেই বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব