ঢাকা: ধর্মীয় মৌলবাদের হুমকি উড়িয়ে বাঙালি কৃষ্টি-সংস্কৃতির আবহে বর্ষবরণে মাতোয়ারা বাংলাদেশ৷ পদ্মাপারের দেশে রবিবারই ঢুকে পড়েছে নতুন বাংলা বছর ১৪২৬ ৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’ এই বাণী দিয়ে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে৷

কট্টরপন্থী কিছু ধর্মীয় সংগঠন বারবার দাবি করে বাংলাদেশের বাংলা বর্ষবরণ ‘পহেলা বৈশাখ’ (পয়লা বৈশাখ) ইসলামি রীতির পরিপন্থী৷ তবে সেসব উড়িয়েই লাখো মানুষের জন জোয়ারে ভাসছে মহানগরী ঢাকা৷ বাংলা ১৪২৬ বরণ হচ্ছে সাড়ম্বরে৷ রাস্তায় রাস্তায় চলছে ইউনেস্কো স্বীকৃত মঙ্গল শোভাযাত্রা৷ তুমুল হর্ষ উল্লাসে বাংলা বর্ষবরণে মাতোয়ারা পদ্মাপারের দেশ৷

১৯৮৯ সালে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। এর পর থেকে এটা বাংলা বর্ষবরণের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায় এই শোভাযাত্রা। এবারেও রীতি অনুসারে বিখ্যাত রমনা বটমূলের প্রাঙ্গণে বছরের প্রথম সকাল গানে-কবিতায় বরণ করা হয়৷ অনুষ্ঠানের আয়োজক ছায়ানট৷

এরপরেই মঙ্গল শোভাযাত্রার পালা৷ বিভিন্ন লোকজ শিল্প কাঠামো নিয়ে এই শোভাযাত্রা চারুকলা কেন্দ্রের সামনে থেকে বের হয়ে ঢাকার রাস্তা ঘুরেছে৷ শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চারুকলার শিক্ষার্থীদের তৈরি পাখি ও ছানা, হাতি, মাছ ও বক, জাল ও জেলে, টেপা পুতুল, মা ও শিশুর মূর্তি বহন করে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বর্ণিল পোশাক পরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

এবারের শোভাযাত্রার শিল্প-কাঠামোগুলোর একটিতে বাঘের মুখ থেকে কাঁটা তোলার চিরায়ত গল্পটি উপস্থাপিত হয়েছে বাঘ ও বকের অনুষঙ্গে। মঙ্গলের বারতা পেঁচা। সমৃদ্ধির কথা বলছে ছাগলের কাঠামো। লোকজ ঐতিহ্যের চিত্র মেলে ধরেছে গাজির পটের গাছ। এ ছাড়া রয়েছে দুই মাথা ঘোড়া, দুই পাখি, পঙ্খীরাজ ঘোড়া ও কাঠঠোকরা।

শোভাযাত্রাকে ঘিরে এবার গ্রহণ করা হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে এগিয়ে যায় শোভাযাত্রা। এতে মাঝপথে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।