নয়াদিল্লি: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে উত্তাল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। রাজধানী দিল্লিতেও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রের অস্বস্তি আরও বাড়াল বাংলাদেশ। নয়াদিল্লির সঙ্গে ‘জয়েন্ট রিভার কমিশন’ বাতিল করল ঢাকা। বুধবার থেকেই দিল্লিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দু’দিনের বৈঠক শুরুর কথা ছিল। ওয়াকিবাহল মহলের মতে বৈঠক বাতিল করার মধ্য দিয়ে ভারতকে কূটনৈতিক বার্তা দিল বাংলাদেশ।

গত কয়েক বছর ধরেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নদী সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য এই বৈঠক হয়। এবছর ৬টি নদীর জলবণ্টন চুক্তি-সহ নদীগুলির তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

সূত্রের খবর, নদী সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দলকে ভারত সফরের অনুমতি দেয়নি ঢাকা। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বৈঠকে মনু, ধরলা, খোয়াই, গোমতী, মুহুরি, ও দুধকুমার, মূলত ৬টি নদীর বিষয়ে দু’দেশের মধ্য়ে শীর্ষস্তরে আলোচনার কথা ছিল৷ প্রস্তাবিত বৈঠকের প্রথম দিনে যৌথ কমিটি ও দ্বিতীয় দিনে কারিগরি কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। দ্রুত ওই ৬টি নদীর রূপরেখা চুক্তি চূড়ান্ত করতে তথ্যগুলি বিনিময়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জলসম্পদ সচিবদের বৈঠকে তিস্তা ও ফেনীর পাশাপাশি ওই ৬টি নদী নিয়েও আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে উত্তাল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত৷ বিশেষত উত্তর-পূর্বের রাজ্য়গুলিতে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে৷ সেই ক্ষোভের আঁচ পড়েছে রাজধানী দিল্লিতেও৷ প্রতিবাদে পথে নেমেছেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্য়ালয়ের পড়ুয়ারা৷

বাংলাতেও কেন্দ্রের আইনের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরেই চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ৷ কোথাও কোথাও আন্দোলনের নামে চলেছে তাণ্ডব৷ বাস জ্বালিয়ে, ট্রেন পুড়িয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মানুষ৷ বাংলায় কোনওভাবেই এনআরসি বা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়৷ কেন্দ্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ পথে আন্দোলনের বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়৷ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নিজেও পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

এদিকে, এর আগেও ভারত সফর বাতিল করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী। যদিও সফর বাতিলের কারণ বাংলাদেশের তরফে এখনও স্পষ্ট করা হয়নি৷ যদিও ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদেই এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের৷