ঢাকা: বঙ্গোপসাগরে তৈরি সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ক্রমে বিরাট শক্তি নিয়ে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে৷ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে উপকূলবর্তী এলাকায় জারি হয়েছে চরম সতর্কতা৷ পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাও বন্ধ৷

উপকূল লাগোয়া ১৩টি জেলার মধ্যে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, পিরোজপুর সহ ১৩টি জেলার বাসিন্দাদের জন্য খোলা হয়েছে বিশেষ ত্রাণ শিবির৷

কোনও অবস্থায় আগামী ৪৮ ঘণ্টা নদী বা মোহনা সংলগ্ন এলাকায় জলপথে যাত্রী পরিবহণ করা যাবে না৷ এমনই বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

এদিকে বুলবুলের প্রভাবে উত্তাল হতে শুরু করেছে বঙ্গোপসাগর৷ উপকূল সংলগ্ন চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সর্বত্র জারি হয়েছে ৭ নম্বর সতর্কতা৷ শনিবার মধ্যরাতের মধ্যে বুলবুল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলেই আবহাওয়াবিদদের ধারণা। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে ৫ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। ঝড়টি বৃহস্পতিবার সন্ধে নাগাদ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল। সেখান থেকেই তার অভিমুখের দিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে৷ ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকবে৷ ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।

বুলবুল মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতরসহ উপকূলের জেলাগুলিকে ত্রাণ পাঠানোর কাজ শুরু৷ বাতিল হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির কর্মীদের৷ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।