ঢাকা: ভেঙে গেলে গত ১৯ বছরের নজির। বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার পার করেছে। গত দু দশক ডেঙ্গু হলেও সেটা এমন দ্রুত হারে ছড়িয়ে যাওয়ার এই ঘটনা রীতিমতো আতঙ্কের কারণ। ডেঙ্গু আক্রান্ত দেশ বাংলাদেশ।

গত ১৯ বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৫০ হাজার ১৭৬ জন। অথচ এই অগস্টের শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫১ হাজার ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ ১৯ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে মাত্র সাড়ে সাত মাসে।

ঢাকা ডেঙ্গু নগরী। হাজারে হাজারে মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। রোগীদের রক্তের প্লেটলেট কমছে হু হু করে। মৃতের সংখ্যা বেসরকারি হিসেবে ১৩৬ জনে। সরকারি হিসেবে মৃত ৪০ জন।

আরও পড়ুন : বেপরোয়া গাড়িতে মৃত্যু দুই বাংলাদেশির, গ্রেফতার আরসালানের মালিকের ছেলে

আগামী দু মাস আরও ভয়ঙ্কর। এটাই মনে করছেন চিকিৎসকরা। এই দুই মাসে ডেঙ্গু আরও ছড়াবে। মাস ডেঙ্গুর ভরা মৌসুমে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, ২০০০ সালের শুরু থেকে ডেঙ্গু ছড়াতে শুরু করে বড় আকারে। কিন্তু সেটা এই বছর ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বাংলাদেশের এমন কোনও জেলা-উপজেলা নেই যেখানে ডেঙ্গু ছড়ায়নি। সবথেকে বিপর্যস্ত এলাকা হল রাজধানী ঢাকা।

বাংলাদেশ হেলথ এমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সারাদেশে ডেঙ্গুতে নতুন করে ১ হাজার ৪৬০ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্ষার মাঝামাঝি সময় থেকে আগামী দু মাসের মধ্যে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে চলেছে। মূলত ঢাকাতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রবল। এখানকার দুটি পুর নিগম , ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সর্বত্র পিন পিন করে উড়ছে ভয়ঙ্কর এডিস মশা।

আরও পড়ুন : ‘ভারতের সঙ্গে কথা বলে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করুন’, পাকিস্তানকে আমেরিকার উপদেশ

মশা মারতে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এমনকি ভারত, সিঙ্গাপুর, চিন থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় জেনে সেই রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন পরিকাঠামো গত উন্নয়নের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির কারণে জমা জল থেকে প্রবল হারে ছড়াচ্ছে ডেঙ্গুর মশা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা পুর সভার ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থা কীরকম কাজ করে সেটাও ঢাকা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন পুর নিগমে ব্যবহার করার কাজ চলছে।