ঢাকা: এক যুবককে চুরির অভিযোগে থানায় এনে অপরাধ কবুল করানোর সময় ‘ভয়ঙ্কর অত্যাচার’ চালানো, যুবকের মৃত্যু, সেই ঘটনা চাপা দেওয়ার অভিযোগে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ, বাংলাদেশ পুলিশ নিয়ম উলঙ্ঘন করেই যুবক রায়হানউদ্দিনকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।

এদিকে অভিযুক্ত পুলিশের এসআই নিখোঁজ। তিনি ভারতে পালানোর ছক করেছেন এমন সন্দেহে আন্তর্জাতিক সীমান্তে সতর্কতা বাড়িয়ে দেওয়া হলো। অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার আকবর দিনাজপুরের সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরে ঢুকতে পারে। এমন সন্দেহ হওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত হিলি সীমান্তে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সতর্কতা।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে হিলি সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আসা যাওয়া বন্ধ। তাই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সহজেই চিহ্নিত করা যাবে। তবে হিলি সীমান্ত বরাবর চলছে বিশেষ টহল। ওপারে বিএসএফ কে সতর্ক করা হয়েছে। সম্প্রতি সিলেটের বন্দরবাজার থানায় পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয় যুবক রায়হানউদ্দিন। ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নির অভিযোগ, স্বামীকে পুলিশ পিটিয়ে মেরে ফেলে। সিলেট কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তাহমিনা। অভিযোগ, সিলেটের বন্দরবাজার থানা পুলিশ গত শনিবার বিকালে আটক করে রায়হানউদ্দিন’কে। রাতে ফাঁড়িতে প্রচণ্ড নির্যাতন চালায় পুলিশ। ছেড়ে দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করে।

ভোরে অপরিচিত একটি মোবাইল থেকে ফোন পান রায়হানের বাবা। টাকা নিয়ে এসে তাকে উদ্ধারের অনুরোধ করে রায়হান। ছেলেকে বাঁচাতে ভোরে তার বাবা টাকা নিয়ে ওই ফাঁড়িতে গেলে তাকে জানানো হয় রায়হান এখন ঘুমাচ্ছে। পরে বলা হয় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে যেতে।

সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তার ছেলে মৃত। এরপর মৃত ছেলের শরীরে নির্যাতনের ভয়াবহ চিহ্ন দেখতে পান তিনি। অভিযোগে বলা হয়েছে, মৃত রায়হানের হাতের নখ উপড়ানো ছিল। তবে পুলিশ দাবি করে রায়হানকে ছিনতাইকারী সন্দেহ করে জনতা গণপিটুনি দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।

বিতর্ক আরও বড় হয়, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ফুটেজে এর প্রমাণ না মেলায়। রবিবার সিলেট ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। যার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ সেই পুলিশ অফিসার আত্মগোপনে চলে যান।

ফাইল ছবি

নিহতের স্ত্রী মামলার ভিত্তিতে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। অভিযুক্ত এসআই এখনো নিরুদ্দেশ।

গ্রেফতারি এড়াতে ভারতে ঢুকে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানাজানি হতেই আরও বিতর্ক বাড়ল। সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনার প্রাক্তন কমান্ডোকে কক্সবাজারে গুলি করে মারার ঘটনায় এক অফিসার সহ আরো কয়েকজন ধরা পড়েছে।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।