ঢাকা: বিতর্ক রুখতে বিতর্কিত বই প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা এবারও থাকছে অমর একুশ বইমেলায়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন স্মরণে ঢাকায় এই মেলা আয়োজিত হয়।

মেলায় কোনো রকম হামলা রুখতে তৎপর থাকবে বাংলাদেশ সরকার ও ঢাকা মহানগর পুলিশ। সাংবাদিক সম্মেলন করে ঢাকা পুলিশ জানান, এবারও বইমেলায় কোন ধরনের বই প্রকাশ করা যাবে, আর কোনটি যাবে না, তাতে পুলিশের কড়া নজরদারি থাকবে।

এছাড়া ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের কারণে এবার অমর একুশে বইমেলা ২০২০ পেছানো হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা একদিন পিছিয়ে ২ ফেব্রুয়ারি তরা হল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, বইমেলা ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে, এমন বই মেলায় থাকতে দেওয়া যাবে না।

গতবছরও একইভাবে বিভিন্ন বিতর্কিত বই প্রকাশ আটকে দেওয়া হয়। এদিকে বাংলাদেশের যুক্তিবাদী লেখকরা এই বই প্রকাশের বিষয়ে কড়কড়ি-কে ভালো চোখে দেখছেন না। তবে একাংশ যুক্তিবিদ মুক্তমনার দাবি, নাশকতার সম্ভাবনা রুখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে।

বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তি সক্রিয়। বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন একুশে বইমেলা বানচাল করার ছক করতে পারে বলে আশঙ্কা থাকছে। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ নাশকতা রুখতে কড়া নজরদারি করছে বলেই সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়।

২০১৫ সালে এই অমর একুশ বইমেলায় জঙ্গিদের হাতে খুন হন বাংলাদেশি-আমেরিকান মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায়। গুরুতর জখম হন তাঁর স্ত্রী রফিদা আহমেদ বন্যা।

তারও আগে এই ঢাকা বইমেলাতেই কবি শামসুর রহমানকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি কোনওরকমে বেঁচে পান। গত কয়েকবছরে বাংলাদেশে লাগাতার মুক্তমনা বুদ্ধিজীবী খুন হয়েছে বাংলাদেশে। প্রতিক্ষেত্রে ইসলামি উগ্র সংগঠনগুলি খুনে জড়িত।

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মীয় অনুভূতি তে আঘাত করে কোনও বই মেলায় এলে তখনি বাজেয়াপ্ত করা হবে। এই ধরণের বই প্রকাশ করতে বিভিন্ন প্রকাশনী সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে।