• জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লক্ষ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা দুর্নীতি মামলার রায়৷
• মূল অভিযুক্ত খালেদা জিয়া, তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি সুপ্রিমো
• কারাদণ্ড হতে খালেদা জিয়ার৷
• প্রবল হিংসা ছড়ানোর আশঙ্কা বাংলাদেশে৷
• হিংসা রুখতে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু, গ্রেফতার হাজারের বেশি
• নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ঢাকা বিচ্ছিন্ন গোটা দেশ থেকে

ঢাকা: তীব্র উত্তেজনায় ফুটছে বাংলাদেশ৷ অন্যতম বিরোধী নেত্রী তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ (অনাথ আশ্রম) দুর্নীতি মামলার রায়দান বৃহস্পতিবার৷ রায়দান ঘিরে হিংসা ছড়াতে পারে এই আশঙ্কায় শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়৷ চলছে তল্লাশি অভিযান৷ এর জেরে বুধবারই ঢাকা পুরো বাংলাদেশ থেকেই বিচ্ছিন্ন৷ সাধারণ জনজীবনে ছড়িয়েছে আতঙ্ক৷

দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদণ্ড হবে খালেদা জিয়ার৷ তাঁকে কোন কারাগারে রাখা হবে সে বিষয়েই চলছে আলোচনা৷ এমন পরিস্থিতি মাথায় রেখে শুরু হয়ে গেল জেল পরিচ্ছন্নের কাজ৷ ভিভিআইপি নেত্রীর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের (সংশোধনাগার) নারী সেল৷ জল্পনা উস্কে আগেই নিজের জেল যাত্রার কথা শুনিয় আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন খালেদা জিয়া৷ বিএনপি নেতৃত্ব বনাম আওয়ামি লিগ নেতাদের একের পর এক বয়ানে উত্তপ্ত হয়েছে রাজনৈতিক পরিবেশ৷

পড়ুন: খালেদার জেল হলেই হিংসা ছড়াতে তৈরি জামাত

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আরও এক অভিযুক্ত খালেদা পুত্র তারেক রহমান আছেন লন্ডনে৷ তিনি আপাতত ধরা ছোঁয়ার বাইরে৷দুর্নীতি মামলায় তাঁকে ছাড়া বিএনপি দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের কোথায় রাখা হবে সে বিষয়েও চিন্তিত কারা দফতর৷

যে কারণে মামলা: ৮ ফেব্রুয়ারি চর্চিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার (জিয়া অনাথ আশ্রম দুর্নীতি) রায়দান৷ এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত খালেদা জিয়া ও তাঁর পুত্র তারেক রহমান-সহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব৷ অনাথদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে এসেছিল ২ কোটি ১০ লক্ষ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা অনুদান৷ সেই টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগের তদন্ত করে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)৷ তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই ঢাকার রমনা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়৷

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার খালেদা জিয়ার জেল হলে বিএনপি ও জামাত ইসলামি জোট একযোগে হিংসা ছড়াতে পারে৷ এই আশঙ্কায় মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে বিশেষ তল্লাশি৷ বিএনপি-জামাত সহ ২০ দলীয় জোটের প্রায় দেড় সহস্রাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হল। বহু নেতা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

রায়কে কেন্দ্র করে টানটান উত্তেজনা সারাদেশে। নজরদারি, তল্লাশি, সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ মিলিয়ে কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রাজধানী ঢাকা। এরই মধ্যে ঢাকার সব বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন ও সদরঘাটে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। পাড়ায়-মহল্লায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ফলে বুধবার থেকেই ঢাকা মূলত সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন৷  বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের খবর, রায়ের পর তাৎক্ষণিক যে কোনও ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ সতর্ক গোয়েন্দা বিভাগ৷