ঢাকা: বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েই প্রধানমন্ত্রীর এই সফর। চলতি মাসের ১৬ তারিখ বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর সফর ঘিরে ইতিমধ্যে পদ্মাপাড়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। হেফাজতে ইসলামের তরফে হুঁশিয়ারি, ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে বের হতে দেওয়াই হবে না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

যদিও পালটা বাংলাদেশ সরকারের তরফেও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কেউ যদি প্রধানমন্ত্রীর পথ আটকানোর চেষ্টা করে তাহলে কড়া হাতে প্রতিহর করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে এই বিতর্কের মধ্যেই মোদীকে ব্যঙ্গ করে ফেসবুকে পোস্ট। আর সেই পোস্ট করা বাংলাদেশে গ্রেফতার করা হল এক যুবককে। ধৃত যুবকের নাম এমদাদুল হক মিলন বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্ত যুবক ময়মনসিংহ জেলার আটানিবাজার এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ফেসবুকে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের শাসকদল আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল কাদেরকে নিয়ে ফেসবুকে অশ্লীল পোস্ট করেছেন। আর এই পোস্ট সে দেশে রীতিমত ভাইরাল হয়ে পড়ে। আর তা ভাইরাল হওয়ার পরেই বাংলাদেশ সরকারের তরফে বিষয়টি নিয়ে কড়া ভাবে দেখা হয়। গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত যুবককে।

জানা গিয়েছে, মিলন নামে ওই যুবকের আটানিবাজার মোড়ে একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। তাঁর বাড়ি কাশিমপুর গ্রামে। মোদীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরের আগে কয়েক দিন ধরেই ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করছিলেন তিনি। এর পর তাঁকে তথ্য প্রযুক্তি আইনে গ্রেফতার করে মুক্তাগাছা থানার পুলিশ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বিদেশমন্ত্রী আবদুল মোমেন কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আসা নিয়ে কেউ অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তাকে কড়াভাবে প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, বন্ধু রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এসএমই মেলার অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমনটাই বলেন।

মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য বিশেষ আপ্যায়ন থাকছে। আগামী ১৭ মার্চ থেকে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালন শুরু। অনুষ্ঠানে থাকছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী সহ বিশিষ্টরা। এই উৎসব ঘির সেজে উঠেছে গোটা বাংলাদেশ। কিন্তু দিল্লির ভয়াবহ গোষ্ঠী সংঘর্ষের পর উত্তপ্ত বাংলাদেশ।